ক্যাম্প থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে টাকা নিয়ে সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণের অভিযোগ

186

ফাঁসিদেওয়া, ১৯ অগাস্টঃ বারংবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদনপত্র পূরণে টাকা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ, দুয়ারের সরকার ক্যাম্পের ১০০ মিটারের মধ্যে রীতিমতো টাকা নিয়ে সরকারি আবেদনপত্র অবৈধভাবে পূরণ করার অভিযোগ উঠল কিছু মানুষের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ পৌঁছাতেই টাকা এবং আবেদনপত্র ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দৌড়ে পালাল অভিযুক্তরা। বৃহস্পতিবার ফাঁসিদেওয়ার চটহাট হাই স্কুল এবং চটহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে চতুর্থ দিনের দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প বাইরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মহম্মদ বসিরউদ্দীনকে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস জড়িত ছিল বলে বিজেপির অভিযোগ।

এদিন সকাল থেকেই ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সৈয়েদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং চটহাট বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতের চটহাট হাইস্কুল ছাড়াও চটহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প বসেছিল। বিধাননগর এবং চটহাটে মোটামুটি শৃঙ্খলাপূর্ণভাবেই উপভোক্তাদের পরিষেবা দেওয়ার কাজ চলছিল। এরইমাঝে চটহাট বাজারে একটি যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে ১০-২০ টাকা নিয়ে লাইন দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কিছু স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, এলাকার কিছু মানুষ ক্যাম্প থেকে সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র নিয়ে তাঁদের কাছে টাকার বিনিময়ে পূরণ করে নিচ্ছিলেন। অথচ, রাজ্য সরকার এধরনের কার্যকলাপ বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। সেই জন্য এদিনের ক্যাম্পে প্রায় ৬০ জন সরকার অনুমোদিত কর্মী সাধারণ উপভোক্তাদের আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। এরপরও এমন ঘটনায় বিশিষ্টমহল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

- Advertisement -

খবর পেয়ে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ বসিরউদ্দীন আবেদনপত্র পূরণকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বাঁচাতে যান বলে অভিযোগ। সাংবাদিক জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ওই সমস্ত স্থানীয়রা ব্যাংকের আবেদনপত্র পূরণ করে দিচ্ছেন। তাঁরা টাকাও নিচ্ছে না। এরই কিছুক্ষণের মধ্যে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হানা দেয়। টেবিল, চেয়ার এমনকি টাকা, আবেদনপত্র ফেলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। সেই সমস্তকিছু পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদের পর দেখা যায়, তাঁরা সামনেই থাকা একটি ব্যাংকে কাজে এসেছিলেন। এরপর তাঁদের সেখান থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহুর্তে চটহাট বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে, একাধিক স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ভাঙিয়ে সেখানে টাকা নিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করে দিচ্ছিল তা নিশ্চিত করেছেন অনেকেই। বিজেপির ফাঁসিদেওয়া মণ্ডল সভাপতি অনিল ঘোষ বলেন, শাসকদল মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। মুখে বলছে বিনে পয়সায় সব কাজ হবে। আর নিজেদের লোককে দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করিয়ে কমিশন নিচ্ছেন।

চটহাট খালাপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ নাজিরউদ্দীন বলেন, স্ত্রীর লক্ষীর ভান্ডারের আবেদনপত্র ক্যাম্প থেকে তুলেছিলাম। আমি অশিক্ষিত, তাই আবেদনপত্র পূরণ করতে পারি না। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে কিছু স্থানীয় যুবক এবং যুবতী টাকার বিনিময়ে আবেদনপত্র পূরণ করেছিলেন। ২০ টাকা দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে সেটি পূরণ করে নিয়েছি। স্থানীয় লটারি টিকিট বিক্রেতা মহম্মদ জামাল বলেন, এদিন সকাল থেকে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে টেবিল-চেয়ার পেতে ১০-২০ টাকার বিনিময়ে লক্ষীর ভান্ডার, স্বাস্থ্য সাথী সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণ করছিলেন। ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও আলম মহম্মদ নামে এক আবেদনপত্র পূরণকারী বলেন, দুয়ারে সরকারের কোনও আবেদনপত্র সেখানে পূরণ করা হয়নি। বরং, তাঁরা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদনপত্র পূরণ করে দিচ্ছিলেন। ফাঁসিদেওয়া বিডিও বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। স্থানীয় থানাকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জানিয়েছি। তাঁরা উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পের ভিতরে আবেদনপত্র পূরণ করা হয়েছে। ক্যাম্পের আবেদনপত্র বাইরে যায়নি। এদিন চটহাটে প্রায় ৩ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে বলে খবর।