বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নোটিশ পুরসভার

128

কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জ শহরের পুরব পালিতে বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ১৫৪ ফ্ল্যাটের ৯ তলা বহুতল নির্মাণ নিয়ে শহরে ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগের পর সোমবার কিশনগঞ্জ পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দীপক কুমার এই বহুতল নির্মাণের কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করেছেন। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ, এই সংস্থাটি পুরসভার থেকে আবাসন প্রকল্পের প্ল্যান পাস করায় নি। এই প্রকল্পের জমিতে প্রায় ৫০টির বেশি ফলের গাছ ছিল। কিন্তু বন দপ্তরের থেকে কোনও অবজেকসন সার্টিফিকেট নেয় নি। এর ফলে প্ৰদূষণজনিত ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আগে এই খালি জমিতে লোকজন প্রাতঃভ্রমণের জন্য যেত বলে জানা গিয়েছে। আবার এই নির্মীয়মাণ আবাসনের পাশেই পাওয়ার গ্রীড ষ্টেশন আছে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নির্মীয়মাণ ক্যাম্পাসে প্রায় ৩০ ফুট গর্ত খোঁড়া হয়েছে। এরফলে পাওয়ার গ্রিডের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিশনগঞ্জ সিসমিক জোনের মধ্যে রয়েছে। আবার এই নির্মীয়মাণ মাল্টিস্টোরেট আবাসনের পাশে একটি আবাসিক ও ডেস্কলারদের জন্য বড় স্কুল আছে। এই ৯ তলা আবাসনের অদূরে কিশনগঞ্জের একমাত্র এয়ারবেস আছে। শুধুমাত্র তাই নয় সম্প্রতি এই নির্মীয়মাণ ৯ তলা আবাসনের সামনে দিয়ে জাতীয় সড়কের নতুন ফোর লেন প্রকল্পের কাজ শুরুর স্বীকৃতি কেন্দ্র সরকার দিয়েছেন। আরও অভিযোগ, নির্মীয়মাণ সংস্থাটি স্বীকৃত ফোর লেনের জমি দখল করে রেখেছেন।

বিশেষ সূত্রে খবর, এই সংস্থাটি পুরসভা, বনদপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর, এয়ারপোর্ট অথরিটি, দমকল বা অন্যান্য সংস্থার থেকে কোনও এনওসি নেইনি। অবশ্যই এই ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর পুরসভা কাজ বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে। এই সংস্থার কর্ণধার ডাঃ সুব্রত কুমারকে বেআইনি কার্য্যকলাপের জন্য জবাব তলব করেছেন।

জেলাশাসক ডাঃ আদিত্য প্রকাশ জানান, এই বেআইনি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তে যদি অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। তবে এই নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে বিশেষ ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাঃ সুব্রত কুমারের তরফে ওনার দাদা ডাঃ ভরত প্রসাদ বলেন, ‘সামান্য কিছু বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যা বলার আমার ভাই বলবেন। কিন্তু ডাঃ সুব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।’