সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘ধর্ষক’ আখ্যা দিয়ে বিপাকে তৃণমূলকর্মী

179
সংগৃহীত

হরিশ্চন্দ্রপুর: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘ধর্ষক’ বলে অভিহিত করলেন এক তৃণমূলকর্মী। আর এই পোস্ট ঘিরেই উত্তপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুরের রাজনৈতিক মহল। বিজেপির তরফে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ওই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ওই তৃণমূলকর্মী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ জমা পড়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, কয়েক বছর আগে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার এক সিভিক ভলেন্টিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোফাইলে কুরুচিকর মন্তব্য করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে জামিন অযোগ্য ধারা দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এক্ষেত্রে কেন পুলিশ প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করায় ওই তৃণমূল সমর্থককে গ্রেপ্তার করবে না?

শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ওয়ালে ওই পোস্ট করেছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের রাড়িয়ালের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম। তিনি এলাকায় তৃণমূলের কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। রেজাউলের পোস্টে দেখা যাচ্ছে পাশাপাশি রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রধানমন্ত্রী। দুজনেরই দাড়ি রয়েছে। পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘চেষ্টা করেছিল কবিগুরুকে নকল করতে।’ তার নীচে পাশাপাশি ছবিতে রয়েছে আশারাম বাপু ও প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেল ধর্ষণকারী বাবা আশারামের মতো।’ পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই অবশ্য ওই পোস্ট মুছে দিয়েছেন ওই তৃণমূলকর্মী। তাঁর মেয়ে মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় ভুল করে তা পোস্ট হয়ে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব তা মানতে চাননি।

- Advertisement -

বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, ‘নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতেই তৃণমূলের মদতে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে এটা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশকে বলেছি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে।’ যদিও অভিযুক্ত রেজাউল বলেন, ‘আমি বাইরে রয়েছি। ফোন মেয়ের হাতে ছিল। ভুলবশত ওটা পোস্ট হয়ে গিয়েছে। কেউ দুঃখ পেলে আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’ হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজোনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

নেটিজেনদের একাংশের অভিমত, দলের সমর্থন করতে গিয়ে বিরোধীদের ট্রোল করার ছলে যে নোংরামিতে মাতছেন সবাই তা দেশের সংস্কৃতির পক্ষে লজ্জাজনক।