পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন

179

হলদিবাড়ি: নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে পুকুর বা জলাশয় ভরাট করে জমির চরিত্র বদলের অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে হলদিবাড়ি পুর এলাকায়। দু-একদিনেই পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরই সর্বাধিক পুকুর বা জলাশয় ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দিনের আলোতে শহর জুড়ে চলছে অবৈধ কাজ। ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। ক্ষোভের পারদ চড়ছে স্থানীয় মহলে।

তিস্তা নদীর ওপর গড়ে রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ্যতম ‘জয়ী সেতু’। অন্যদিকে হলদিবাড়ি রেল স্টেশন হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই হলদিবাড়ি শহরকে কেন্দ্র করে ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হচ্ছে। আর এরজন্য প্রয়োজন জমির। সেদিকে নজর রেখে বহিরাগত ব্যবসায়ীরা হলদিবাড়ি শহরের জমি কেনায় নজর দিয়েছেন। ঘটনায় কয়েক মাসে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জমির দাম। এতেই তৎপর হয়ে উঠে একদল জমি মাফিয়া। কম দামে নিচু জমি বা পুকুর কিনে রাতারাতি তা ভরাট করে অধিক দামে বিক্রি করছেন। ফলত শুরু হয়েছে পুকুর ভরাটের অঘোষিত প্রতিযোগিতা।অন্যদিকে, অদ্ভুতভাবে রাতারাতি কাগজে কলমে জমির চরিত্রও বদল হয়ে যাচ্ছে।

- Advertisement -

প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে নম্বরহীন ট্রলি দিয়ে মাটি, বালি দিয়ে নিচু জমি, জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। পরিবেশ প্রেমীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে যখন ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণের তাগিদে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই সময় কি করে এই অবৈধ কাজ হচ্ছে? এনিয়ে জনমানসেও উঠছে প্রশ্ন।

বর্তমানে হলদিবাড়ি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরলে দেখা যায়, যেখানে পুকুর বা বড় জলাশয় ছিল সেখানে মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও অবৈধভাবে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে গভীর গর্ত।পূর্ব পাড়ার নতুন বাস টার্মিনাসের ঠিক উল্টো পাশে জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। ওই বাস টার্মিনাসের উলটো দিকের গলিতে কয়েকটি জলাশয় ভরাট করার কাজ চলছে। শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি নিচু জমি ভরাট করার কাজ চলছে। উত্তর পাড়ার শিশু পার্ক সংলগ্ন এলাকা, কালীবাড়ি মোড়ে অবস্থিত নার্সারি স্কুলের পেছনের কয়েকটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। কলেজ সংলগ্ন নিচু জমি ভরাটের কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়দীপ দে বলেন, ‘দিনের বেলায় মাটি কেটে অবৈধ ট্রলিতে করে শহরে নিয়ে এসে পুকুর, জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোন ভূমিকাই লক্ষ করা যাচ্ছে না।’

ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ আইনের মাধ্য‌মে ভূগর্ভের জলের ব্য‌বহার নিয়ন্ত্রণ ও বৃষ্টির জল যাতে ভূগর্ভে প্রবেশ করতে পারে এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য‌ বেশ কয়েকটি রাজ্য‌ে এ ধরনের আইন রয়েছে। এই আইন এ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন তুলেছেন সমাজকর্মীরা। পিন্টু রায় বলেন, ‘বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে দেখা দিয়েছে পানীয় জলের অভাব। ইউনেস্কো প্রত্যেকটি দেশকে সচেতন হওয়ার জরুরি বার্তা দিয়েছে। এই অভাব মেটাতে পারে একমাত্র ভূগর্ভস্থ জল। এলাকার ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে পুকুর, খাল, বিল, নদী, নালা। তাই এগুলি বুজিয়ে ফেলা একেবারেই অনৈতিক ও অবৈধ।’

হলদিবাড়ির বিএলআরও ইন্দ্রজিৎ দাঁ বলেন, ‘অভিযোগ পেলেই দপ্তরের তরফে অভিযান চালানো হয়। কয়েকজন কর্মী ট্রান্সফারের কারণে সাময়িকভাবে বিরতি ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।‘