বিপুল টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বহু নতুন গাড়ি

165

আসানসোল: আসানসোল পুরনিগমের জন্য মিশন নির্মল বাংলার টাকায় কেনা প্রচুর গাড়ি ব্যবহার না হওয়ায় কার্যত পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পুরনিগমের সাফাই বিভাগের কাজের জন্য ৪২টি মিনি পিকআপ ভ্যান ও ২২টি মিনি ট্রাক কেনা হয়। অভিযোগ, গত ৩ বছর ধরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে কেনা ওই ৬৪টি গাড়ি আসানসোলের ২ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া বাঘবন্দি গ্রামে খোলা আকাশের নীচে ফেলে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে রোদে ও জলে ওই গাড়িগুলি নষ্ট হচ্ছে।

গত পুর বোর্ডের সময় ‘মিশন নির্মল বাংলা’ আসানসোল শহরকে ‘ক্লিন আসানসোল গ্রিন আসানসোল’ তৈরি করার লক্ষ্যে প্রচার ও সচেতনতার কাজ শুরু করা হয়। শহরকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করার জন্য তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারির উদ্যোগে ৩ বছর আগে ৬৪টি গাড়ি কেনা হয়। অভিযোগ, কেনা সেই গাড়িগুলির বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয়নি। ৬৪টি গাড়ি খোলা আকাশের নীচে রাখার কারণে সেখানে আগাছা গজিয়ে উঠেছে। গাড়িগুলির টায়ার নষ্ট হয়ে মরচে পড়ে ব্যাটারি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বেশিরভাগটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়িগুলি এখন আর ব্যবহার করার অবস্থায় নেই।

- Advertisement -

আসানসোল পুরনিগমের সাফাইয়ের কাজে থাকা কর্মীরা জানান, গাড়ির অভাবে বিভিন্ন এলাকায় সাফাইয়ের কাজে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই সম্পর্কে পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র তথা পুর প্রশাসক জিতেন্দ্র তেওয়ারির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গাড়িগুলি যে অব্যবহৃত অবস্থায় খোলা জায়গায় পড়ে আছে তা জানতে পেরেছি। পুরনিগমের তরফে শীঘ্রই এই গাড়িগুলি মেরামত করে গাড়িগুলিকে পুরনিগমের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য অভিজিৎ ঘটক বলেন, ‘সাফাইয়ের জন্য কেনা এই গাড়িগুলির বর্তমান অবস্থা গত পুর বোর্ডের অবহেলার কারণে হয়েছে। প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুল টাকা খরচ করে গাড়ি কিনে ফেলার নির্দেশ দেন। যেগুলি ব্যবহার না করে নষ্ট হওয়ার জন্য খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছে। যা এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।’ আসানসোল জেলা বিজেপির কনভেনার শিবরাম বর্মন বলেন, ‘পুরনিগমের অবহেলার বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। পুরনিগমের সাফাইয়ের জন্য কেনা অনেক গাড়ি রোদে ও জলে থেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটি কেন্দ্রের স্বচ্ছ ভারত মিশনের টাকার অপব্যবহার হয়েছে। সম্ভবত এসব গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কাটমানির খেলা ছিল।’