সেফ হাউসে অব্যবস্থার অভিযোগ

237

গাজোল: কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার কিংবা আইসিএমআর সকলের তরফে বলা হচ্ছে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁদের রাখা হোক সেফ হাউস কিংবা হোম কোয়ারান্টিনে। তবে প্রথম দিকে অনেকেই এই অবস্থা না মানতে চাইলেও বর্তমানে কিন্তু প্রায় সকলেই এই অবস্থা মেনে নিয়েছেন। সেই অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে সেফ হাউস। গাজোল কলেজকেও তৈরি করা হয়েছে সেফ হাউসে। জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের রাখা হচ্ছে সেখানে।

শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ছিলেন ২৪ জন করোনা আক্রান্ত। শনিবার তাঁদের মধ্যে থেকে ৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বামনগোলা, পুরাতন মালদা এবং গাজোল সহ অন্যান্য জায়গার ১৩ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা রয়েছেন গাজোল কলেজের সেফ হাউসে। কিন্তু সেখানকার আবাসিকেরা নানা ধরনের অব্যবস্থার অভিযোগ তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞরা এবং চিকিৎসকেরা বলছেন বারবার তরল জাতীয় গরম কিছু খেতে। কিন্তু তার কোনও ব্যবস্থা নেই সেখানে। তার উপরে গত দু’দিন ধরে একটি শেয়াল মরে পড়ে রয়েছে কলেজের ভেতরে। কিন্তু সেটিকে সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার ফলে চরম দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

এদিন সেখানকার আবাসিকেরা সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে জানান, সেখানে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না তাঁরা। এর জেরে তাঁরা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। অভিযোগ, খাবার বলতে সকালে একবার মুড়ি, চানাচুর বা দুটো পরোটা তরকারি দেওয়া হয়। এরপর দুপুর এবং রাতে ভাত। মাঝেমধ্যে হয়তো দুপুরবেলা পোনা মাছ, ডিম দেওয়া হলেও রাতের বেলা দেওয়া হচ্ছে শুধু তরকারি আর মোটা চালের ভাত। সামান্য ডালও দেওয়া হয় না। দিনে একবার ডাক্তার আসেন তিনি দেখে চলে যান। এখানে আসার পর একবারই তাঁদের কয়েকটি জ্বর এবং সর্দি কাশির ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁদের সব থেকে দরকারি যে জিনিসটি সেটি হল তরল জাতীয় গরম জিনিস। যা তাঁদের একবারও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁদের আবেদন, দিনে কম করে চার-পাঁচবার গরম জল অথবা চা দেওয়া হোক। আর অবিলম্বে শেয়ালটির দেহটি সেখান থেকে সরানো হোক।

এ বিষয়ে বিডিও উষ্ণতা মোক্তান বলেন, ‘সেকান থেকেও আমাকে ফোন করা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পরই প্রথমেই মৃত শেয়ালটিকে সেখান থেকে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরেও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে ডিম, ভাত। রাতেও যাতে ভালো খাবার দেওয়া যায় এবং টিফিনে আরও পুষ্টিকর খাবার যাতে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’