কোচবিহারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মী নিয়োগে জটিলতা

598

কোচবিহার :  ফের কোচবিহার জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ আটকে গেল। কোচবিহার জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির শূন্যপদে কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগে  ড্রিস্ট্রিক্ট সিলেকশন ও মনিটরিং কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয়েছিল বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে এবং ডেপুটি চেয়ারপার্সন করা হয়েছে পার্থপ্রতিম রায়কে। কিন্তু তাঁদের এই পদ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ে হয়েছে। সেই পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কোচবিহার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায়  ৪ হাজার ১৮৮টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলার অনুমোদন রয়েছে। তারমধ্যে ৩ হাজার ৯৮৬টি কেন্দ্র বর্তমানে চালু আছে। আর এই কেন্দ্রগুলিতে অনেক জায়গায়ই উপযুক্ত কর্মী নেই। ৬৭৯টি কর্মীপদ ফাঁকা রয়েছে। ৯৬৬টি সহায়িকার পদ ফাঁকা রয়েছে। সব কেন্দ্রে কর্মী না থাকায় বেশ কিছু জায়গায় তিনদিন করে কর্মীরা কাজ করেন। ফলে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন,  কর্মী নেওয়ার জন্য আমরা তো কাজ শুরু করেছিলাম। নিয়োগও শুরু হত। বৈঠকও করা হয়।  কিন্তু হঠাৎ করে একটি মামলা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়। তারপর লকডাউন শুরু হয়ে যায়। তাই এখন কিছু করা যাচ্ছে না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়। সেই অনুয়াযী সেসময় ছয় সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এরপর সেই নির্দেশ বাড়িয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তারপর লকডাউনে কোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি কী অবস্থায় রয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না।

- Advertisement -

কোচবিহারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উপর প্রায় ৩ লক্ষ ১৬ হাজার মা ও শিশু নির্ভর করে। জেলায় ২০১৫ সাল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সেই সময় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলার ফরওয়ার্ড ব্লকের চারজন বিধায়ক- উদয়ন গুহ, পরেশ অধিকারী, অক্ষয় ঠাকুর এবং নগেন্দ্রনাথ রায় হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। সেই মামলার ফলেই দীর্ঘদিন কোচবিহারে নিয়োগ বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ৮ তারিখ রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণ দপ্তরের একটি অর্ডার বের হয়। তাতে কোচবিহার জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগে ড্রিস্ট্রিক্ট সিলেকশন ও মনিটরিং কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে এবং ডেপুটি চেয়ারপার্সন করা হয় বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে। কিন্তু তারপরই  ভোট ঘোষণা হওয়ায় এই নির্দেশ কার্যকরী হয়নি। নির্বাচনবিধি উঠে যাবার পরও নিয়োগের কাজ শুরু হয়নি। এর মধ্যেই ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রাজ্য থেকে নতুন একটি নির্দেশ আসে, তাতে ড্রিস্ট্রিক্ট সিলেকশন ও মনিটরিং কমিটির নতুন চেয়ারপার্সন করা হয় বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে এবং ডেপুটি চেয়ারপার্সন করা হয় পার্থপ্রতিম রায়কে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন কমিটির অধীন একটি বৈঠকও হয়। কবে ফের শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এদিকে, পাঁচ বছর ধরে কোচবিহারে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় এবং একাধিকবার মামলা হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।