কুলিকে তলিয়ে যাচ্ছে বহু গাছ

সুকুমার বাড়ই, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জের প্রাণ কুলিক নদী। এই নদীর পাশেই রয়েছে কুলিক ফরেস্ট। নানা ছোট-বড় গাছে ভরা এই বন। বনের মাঝ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কুলিক নদী। নদী আর বনের মধ্যে মিত্রতা বহুদিনের। বাংলাদেশ থেকে বয়ে আসা একটি ছোট্ট নদী এই কুলিক। আঁকাবাঁকা পথে সে উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের মধ্যে দিয়ে এসে রায়গঞ্জে পৌঁছেছে। জেলা সদর শহর রায়গঞ্জের বুক চিরে কুলিক ধীরগতিতে চলেছে মোহনার খোঁজে। কুলিকের গতিপথের দুপাশে কখনও বা দেখা যায় উর্বর কৃষিজমি, আবার কখনও বা বিস্তৃত অরণ্য অঞ্চল।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবছরই কুলিক ভাঙাগড়ার খেলায় মেতে ওঠে। বন্যা বেশি হলে এই ভাঙাগড়ার খেলায় কুলিকের শক্তি বেড়ে যায়। এবারও বন্যার সময় রায়গঞ্জে এসে পূর্ব পাড় বরাবর দীর্ঘ পথ ভেঙে নতুন পথের উৎস খুঁজে চলেছে কুলিক। শিয়ালমণি এলাকায় যে কোনও সময়ে নদীর বড় রকমের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, ১৩৩ একর জমি নিয়ে তৈরি কুলিক বন। প্রতি বছর একটু একটু করে কমতে শুরু করেছে বনাঞ্চল। বনাঞ্চল কমলে তার প্রভাব রায়গঞ্জের নাগরিক জীবনে পড়বে। এবছর নদীর কূল বরাবর ভাঙনের ফলে বহু গাছ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ভেতরে ভেতরে এখনও ভাঙন চলছে। অভিযোগ উঠছে, এই নদী ভাঙনের ফলে বহু গাছ নদীবক্ষে চলে গেলেও তা নিয়ে কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। কুলিকে ভাঙন রোধের জন্য কোনও পরিকল্পনাও চোখে পড়ছে না। রায়গঞ্জ বনবিভাগের আধিকারিক সোমনাথ সরকার বলেন, বিষয়টি আমি দেখেছি। আমি রেঞ্জ অফিসারকে বলেছি। সেচ দপ্তরকেও জানাব।

- Advertisement -

কুলিক বাঁচাও কমিটির সম্পাদক পবিত্র চন্দ্রর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবিষয়ে দ্রুত পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে না পারলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়া শুধু সময়ে অপেক্ষা। তিনি জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে জানানোর পরেও কুলিক রক্ষার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আজ পর্যন্ত রূপায়িত হয়নি। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব স্তরের মানুষকে একত্রিত হয়ে কুলিককে বাঁচানোর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এবছর বন্যার সময় স্রোতের তোড়ে বহু গাছ নদীর জলে ভেসে গিয়েছে। এখনও বেশ কিছু গাছ নদীবক্ষে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন নদীবক্ষে বড় বড় গাছ পড়ে থাকলেও বনদপ্তর এখনও পর্যন্ত এই গাছগুলোকে সরানোর ব্যবস্থা করেনি। পরিবেশপ্রেমী চন্দ্রনারায়ণ সাহা জানান, কুলিক নদী ও বন বাঁচাতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে যথাযথ পরিকল্পনা ও আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন। রায়গঞ্জ শহর বরাবর নদীর পাড় বাঁধানো ও নদীগর্ভে ড্রেজিং করানো ভীষণ জরুরি।

রাজ্য নদী বাঁচাতে কমিটির আহ্বায়ক তুহিনশুভ্র মণ্ডল জানান, গঙ্গা-ফুলহর ছাড়া উত্তরবঙ্গের অন্য অংশে নদী ভাঙন নিয়ে খুব বেশি কথা হয় না। কুলিক নদীর ভাঙনের সঙ্গে কুলিক বনাঞ্চলের গাছও জড়িয়ে আছে। নদী রক্ষা ও গাছ রক্ষা দুইই জরুরি। আবার নদীর গতিপথ পরিবর্তনও ভাঙনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন, সেচ দপ্তর ও বন দপ্তরের দেখা উচিত। এবিষয়ে কমলাবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত দাব বলেন, বারবার বন দপ্তরকে বলেছি। সেচ দপ্তরকেও বলেছি। কিন্তু কেউই কিছু করেনি। এবারের বন্যায় ভাঙেছে। পরে আরও ভাঙবে। রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি দেখে আসছি। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বহুবার বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।