পরিযায়ীরা তথ্য গোপন করায় উদ্বেগ বাড়ছে ফালাকাটায়

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটায় এখনও পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন। কিন্তু সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় ঘরে ফেরা পরিযায়ীদের একাংশ তথ্য গোপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্প্রতি গুজরাট থেকে ফেরা ৩ পরিযায়ী শ্রমিক তথ্য গোপন করেন। তাঁরা প্রথমে কলকাতা থেকে ফেরার কথা স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানায়। পরে সঠিক তথ্য জানতে পেরে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ওই তিনজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফালাকাটায়।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ-২ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা তথ্য গোপন করলে তাঁদের নিজের পরিবার ও এলাকার ক্ষতি হতে পারে। তবে ফালাকাটার ওই তিনজনকে পরে সরকারি কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ফালাকাটায় সুস্থতার হারও অনেকটা বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ফালাকাটা ব্লক প্রশাসনের কাছে নথিভূক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ১০ হাজার ২৭৩। ইতিমধ্যে ৬ হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বাড়িতে ফিরেছেন। এখনও  ৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। তবে রোজই পরিযায়ীরা ফালাকাটায় ফিরছেন।

এজন্য গোটা ব্লকে এখনও ৪১টি কোয়ারান্টিন সেন্টার চালু রয়েছে। এই সেন্টারগুলিতে দু’হাজারেরও বেশি আবাসিকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখন প্রায় সাড়ে আটশোজন আবাসিক কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলিতে রয়েছেন। পরিযায়ীদের ফেরার জন্য ব্লক প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। যাবতীয় বন্দোবস্তও করা আছে।

এদিকে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশের মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশ- এই সাতটি রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরলে তাঁদের আবশ্যিকভাবে কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখতে হবে। বাকি অন্য রাজ্য কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও জেলা থেকে কেউ ফিরলে তাঁদেরকে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশের বিষয়টি জানাজানি হতেই ফালাকাটায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন। যা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য বাড়ছে এলাকায়।

সম্প্রতি কুঞ্জনগরের তিনজন বাসিন্দা গুজরাটের আমেদাবাদ থেকে ফালাকাটায় ফেরেন। কিন্তু ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁরা কলকাতা থেকে ফিরেছেন বলে জানান। নির্দেশিকা মেনে স্বাস্থ্য দপ্তর তিনজনকেই হোম কোয়ারান্টিনে পাঠিয়ে দেয়।

পরে জানা যায়, তাঁরা গুজরাট থেকে ফেরার তথ্য গোপন করেছেন। তারপর তড়িঘড়ি স্বাস্থ্য দপ্তর বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে তাঁদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে। এখন তিনজনকেই একটি কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের কর্তারা উদ্বিগ্ন।

এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে যে, যাঁরা বাইরে থেকে ফিরছেন, তাঁরা যেন কোনওভাবে ভুল তথ্য না দেন। ভুল তথ্যের জেরে পরিযায়ীদের পরিবার ও এলাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঠিক তথ্য ও সচেতনতার মাধ্যমেই করোনার মোবাকিলা করা সম্ভব বলে স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি।

ডেপুটি সিএমওএইচ-২ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, এভাবে ভুল তথ্য দিলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি। মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, এটা মারাত্মক সমস্যা। তাই তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ফালাকাটা ব্লকে ৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা জেলার অন্যান্য ব্লকের থেকে বেশি। তবে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৮ জন। বাকি ৩০ জনের চিকিৎসা চলছে তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালে। তবে ফালাকাটার প্রত্যেক আক্রান্তই উপসর্গহীন থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।