শুভেন্দুর দোলাচলে ভাঙন রোধ নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : বছর পোহালেই নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মপন্থা কী হবে তা তিনি খোলসা করে এখনও বলেননি। সেচ দপ্তরেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দপ্তরের কাজকর্মেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে মালদা জেলার কয়েকটি সংকটাপন্ন নদীবাঁধ ও ভাঙন রোধের কাজের অনুমোদন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, শুখা মরশুম চলছে। এখনই নদীর ভাঙন রোধের কাজ অনুমোদিত না হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতেই ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে ভাঙন রোধের কাজ অধরাই থেকে যাবে। অন্যদিকে জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জেলার ভাঙন রোধের প্রকল্পগুলি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। শুখা মরশুমে গঙ্গা ও ফুলহরে অনেকগুলি এলাকায় ভাঙন রোধ এবং বাঁধ সংস্কারের কাজ হওয়ার সম্ভাবনা। এব্যাপারে শুভেন্দুবাবুর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি। তবে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, সেচ দপ্তরের কাজ ঠিকভাবেই চলছে। অনেকগুলি প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে ভাঙন রোধের কাজ সঠিক সময়ে হবে।

- Advertisement -

সিপিএম নেতা দেবজ্যোতি সিনহার অভিযোগ, নদী ভাঙন মালদা জেলার অন্যতম বড় সমস্যা। ভাঙন রোধের কাজের জন্য ভালো সময় ডিসেম্বর থেকে মে মাস। সেচ দপ্তরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অবস্থান কী হবে, তা তিনি এখনও ঘোষণা করছেন না। তিনি দল ছাড়েননি। মন্ত্রিত্বেও রয়েছেন। একথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অথচ আমরা জানতে পারছি, শুভেন্দুবাবু সেচ দপ্তরে পা রাখছেন না। ফলে এই দপ্তরের কাজকর্ম চলছে শ্লথগতিতে। ভাঙন রোধের অনেক প্রকল্প আটকে রয়েছে। জেলায় অনেকগুলি বিপদসংকুল এলাকা রয়েছে। সেখানে চলতি শুখা মরশুমে কাজ না হলে অনেক গ্রামের হাজারো মানুষ বিপদে পড়বেন।

তিনি বলেন, রতুয়া-১ ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দটোলায় আগ্রাসী ফুলহর এবং গঙ্গার ভাঙনে দুটি অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা বিপন্ন। মানিকচকের শংকরটোলা এবার কোনওভাবে বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু ভাঙন রোধের স্থায়ী কাজ না হলে আগামীদিনে মথুরাপুরকে বাঁচানো অসম্ভব। একইভাবে ভূতনির কেশরপুরে নদী ভাঙনে বাঁধ বিপন্ন হয়ে রয়েছে। যে কোনও সময় বাঁধ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা। এখন ভাঙন নেই। গঙ্গার পাড় থেকে এখন মাত্র কয়েক ফুট দূরে বাঁধ। এখানে স্থায়ী ভাঙন রোধের কাজ দরকার। অন্যদিকে, সাকুল্লাপুর, বৈষ্ণবনগর সহ মালদা সেচ দপ্তরের আওতায় থাকা এলাকাগুলিও গঙ্গার ভাঙনে বিপন্ন। এই জায়গাগুলিতেও ভাঙন রোধের কাজ করা দরকার। কিন্তু বিভাগীয় মন্ত্রী দোলাচলে থাকায় দপ্তরের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। এই পরিস্থিতির নিরসন হওয়া দরকার।

মানিকচকের বিধায়ক মোত্তাকিন আলম বলেন, প্রকল্পগুলি মঞ্জুর হয়েছে কিনা আমরা বুঝতে পারছি না। জানতে পারছি, মন্ত্রী দপ্তরে যাচ্ছেন না। ফলে এই কাজগুলি অনুমোদন হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সম্ভবত আগামী বছরের গোড়ায় ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া চালানো যাবে না। অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, এসব ক্ষেত্রে দেরি করে কাজের অনুমোদন পাওয়া যায়। বর্ষার মুখে কাজ শুরু হয়। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। টাকা জলে যায়। তাই বর্ষায় কাজ না করে শুখা মরশুমেই এই কাজ করা প্রযোজন। সম্প্রতি রতুয়ার নদী ভাঙনরোধের দাবি জানিয়ে সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনিও মনে করেন, শুখা মরশুমেই কাজগুলি অনুমোদিত হওয়া দরকার।

সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা দাবি করছেন, দপ্তরের কাজে কোনও অচলাবস্থা দেখা দেয়নি। সমস্ত প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। নির্ধারিত সময়ে মধ্যেই প্রকল্পগুলি অনুমোদিত হয়ে যাবে। ফলে শুখা মরশুমে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ বাস্তুকার বলেন, আমরা যেসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি, তার মধ্যে ভূতনির কেশরপুরও রয়েছে। এখানে ভাঙনরোধ এবং বাঁধ শক্তপোক্ত করার কাজ হবে। শংকরটোলায় এবারে বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ী কাজ হয়েছে। এখানে আরও কাজ করা হবে। পশ্চিম নারায়ণপুরে কিছুদিন আগে হঠাৎ ভাঙনে বোল্ডার তলিয়ে যায়। প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পঞ্চানন্দপুর এবং বৈষ্ণবনগরের বিপদসংকুল এলাকাগুলির জন্য প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক ছোট নদীর কাজও প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।