যন্ত্রণার জাতীয় সড়ক, অতিষ্ঠ উত্তরবঙ্গের মানুষ

430

নিউজ ব্যুরো : দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের লাইফলাইন জাতীয় সড়কের অবস্থা নিয়ে উত্তরবঙ্গজুড়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেক জায়গায় রাস্তা তৈরি হওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই তা ভেঙেচুরে ভয়ংকর অবস্থা হয়েছে। দুর্ঘটনা লেগেই আছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদলের নেতারা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপালেও আমজনতার ভোগান্তির শেষ নেই। কোথাও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, কোথাও এসজেডিএ, আবার কোথাও রাজ্য পূর্ত দপ্তরের ভূমিকায় ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। জাতীয় সড়ক নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। কোচবিহারে টোল প্লাজা দেড় বছরেও চালু হয়নি। আলিপুরদুয়ারে জাতীয় সড়কের ধারে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে। আবার রাজগঞ্জে তো এসডেজিএ-র তদারকিতে থাকা জাতীয় সড়কের অংশ এতটাই বেহাল যে, স্থানীয়রা বুধবার রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান।

ইসলামপুর মহকুমার উপর দিয়ে যাওয়া ৩১ ও ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। চড়া হারে টোল ট্যাক্স দেওয়ার পরেও জাতীয় সড়ক বেহাল থাকবে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সড়কের বেহাল দশাই শুধু নয়, জাতীয় সড়ক দখল করে মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় হাট ও বাজার বসছে। ফলে যানজটের ভোগান্তিও রয়েছে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কর্তারা একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপালেও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সমস্যার কথা স্বীকার করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। ডালখোলার পূর্ণিয়া মোড় এলাকায় জাতীয় সড়ক খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। এই এলাকা ৩১ ও ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল। পূর্ণিয়া মোড়ে ফ্লাইওভারের নীচে জবরদখল মারাত্মক আকার নিয়েছে। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পূর্ণিয়া ডিভিশনের অধীনে থাকা একটি সেতু কিছু অংশ ধসে যাওয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সড়ক কর্তৃপক্ষের পূর্ণিয়া ডিভিশনের আধিকারিক প্রমোদ মাহাতো বলেন, সংবাদমাধ্যমকে আমার কিছু বলার নেই। যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবে। ডালখোলা শহরের উপর দিয়ে যাওয়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক খানাখন্দে ভরে রয়েছে। বিশেষ করে চাকার নীচে পড়া পাথর ছিটকে সাধারণ মানুষ জখম হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রায়শই গাড়ি খারাপ হয়ে যানজট তীব্র আকার নিচ্ছে। টুঙ্গিদিঘি লাগোয়া তিতপুকুর থেকে বিলাসপুর হাট পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ অনেকাংশেই হয়ে যাওয়ায় তুলনামূলক দুর্ভোগ কম। কিন্তু করণদিঘি থেকে টুঙ্গিদিঘি পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ না হওয়ায় জাতীয় সড়কে জল ও কাদা জমে থাকছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে দুটি টোল গেট রয়েছে। সেগুলি থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা আয় করা হচ্ছে। অথচ পরিষেবা দেওয়ার সময় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে নিচ্ছে।

- Advertisement -

ইসলামপুরে ফোর লেন বাইপাসের কাজ চলছে। ফলে ইসলামপুর শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়কের সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ উদাসীন। তাঁদের দাবি, যেহেতু বাইপাসের কাজ চলছে তাই এই ১০ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে তাদের কিছু করার নেই। ইসলামপুর শহর সংলগ্ন মঙ্গল ব্রিজের কার্যত ভগ্নদশা। তা নিয়ে সড়ক কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। টুঙ্গিদিঘি থেকে কানকি এবং পাঞ্জিপাড়া থেকে গুঞ্জরিয়া পর্যন্ত জাতীয় সড়ক দখল করে বাজার বসায় সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। এদিকে, ঘোষপুকুরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় বেহাল জাতীয় সড়কে যানজট মারাত্মক আকার নিচ্ছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। তাই রাস্তায় জল দেওয়ার দাবিতে বুধবার ফুলবাড়ি-ঘোষপুকুর বাইপাস অবরোধ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে সড়ক মেরামতের কাজ বন্ধ। বৃষ্টি হলেই জলকাদায় এমন বেহাল অবস্থা হয়েছে যে এখানে পাকা রাস্তা ছিল বলে মনে হয় না। প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। এদিকে, রাস্তায় জল না দেওয়ায় যেভাবে ধুলো উড়ছে তাতে আশপাশের বাসিন্দাদের থাকাই দায়। অবরোধকারীদের পক্ষে প্রদীপ রায় বলেন, ফুলবাড়ি ব্যারেজ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার পাশে বেশ কিছু পরিবার রয়েছে। রাস্তা খুঁড়ে রাখলেও কাজ না হওয়ায় ধুলোবালিতে বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। দমবন্ধ হয়ে আসছে। এর আগেও জল দেওয়ার দাবিতে এলাকার মানুষ সরব হয়েছিলেন। সে সময় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। শম্পা রায় নামে আরেকজন বলেন, আমরা অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। প্রায় দু-ঘণ্টা অবরোধের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। পুলিশের কথায় অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক হলেও য়েহেতু রাস্তার এই অংশে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) টোল ট্যাক্স আদায় করে, তাই ব্যারেজ থেকে ফুলবাড়ি বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা মেরামতির দাযিত্ব তাদেরই। এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, রাস্তাটি মেরামতের জন্য আগেই টেন্ডার হয়েছে। বাস্তুকারকে বিষয়টি দেখতে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের শিলিগুড়ির প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যোৎ দাশগুপ্ত বলেন, ইসলামপুরে সড়ক সংস্কারের ওয়ার্ক অর্ডার ইতিমধ্যে একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তারা কাজ শুরু করবে। তবে জাতীয় সড়ক দখল করে ফসল শুকোনো বা বাজার বসার বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই মর্মে আমরা শীঘ্রই যৌথ অভিযানে নামার পরিকল্পনা নিয়েছি।