ফুলবাড়িতে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

ফুলবাড়ি: রবিবার মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর সংসদের পশ্চিমক্ষেতি এলাকায় ১০০ দিনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় মোট ৭ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুলিশ।

শনিবার দীর্ঘদিন বাদে এলাকায় ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে পুকুর তৈরি কাজ শুরু হয়। বিজেপির ৪ নম্বর বুথের সভাপতি সুরেশ মল্লিকের বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা শনিবার লাঠিসোটা নিয়ে ১০০ দিনের কাজ শুরু করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এলাকার অনেক বাসিন্দা ১০০ দিনের কাজ পায়নি। আমাদের দাবি, সবাইকে কাজ দিতে হবে। তাই যারা কাজ পাননি, সেই সব বাসিন্দাদেরকে নিয়ে কাজের দাবিতে ও মাস্টার রোল দেখতে রবিবার কাজের জায়গায় যাচ্ছিলাম। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ আমাদেরকে সেখানে যেতে বারণ করে। তাই সবাই পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

- Advertisement -

সুরেশবাবুর অভিযোগ, সেই সময় উলটো দিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা পাথর দিয়ে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। ঢিলের আঘাতে বিজেপির ৩ নেতা-কর্মী ও এলাকার ১ মহিলা আহত হন। এ বিষয়ে দলের উঁচু স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন বাদে শনিবার বুথে ১০০ দিনের কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রবিবার সকালে কাজ শুরু হওয়ার পর বিজেপির বহিরাগত ও স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা ১০০ দিনের কাজের উপভোক্তা তথা শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনায় ৩ জন  শ্রমিক আহত হন। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজন উপভোক্তার বাড়ি ভাঙচুর চালানো হয় বলে বৃন্দাবনবাবুর অভিযোগ।

তিনি বলেন, এখানে দলগত কোনও বিষয় নেই। আমার এলাকার ১০০ দিনের কাজের উপভোক্তা বিজেপির আক্রমণে আহত হয়েছেন। তাই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য হিসাবে নিজেই উপভোক্তাদের অভিযোগ থানায় দায়ের করব। এদিকে শনিবার লাঠিসোটা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ১০০ দিনের কাজ করে বলে দাবি করে বিজেপি। এবিষয়ে বৃন্দাবনবাবু বলেন, বিজেপি এই দাবি ভিত্তিহীন। অপরদিকে বিজেপি নেতা সুরেশ মল্লিক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ঘর ভাঙচুরের যে অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেটা তৃণমূল কংগ্রেসের বানানো গল্প।

এখনো পর্যন্ত কোনও পক্ষই ঘোকসাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধনঞ্জয় অধিকারী বলেন, একদিনে সবাইকে কাজ দেওয়া সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে এলাকার সব জব কার্ডধারীকে কাজ দেওয়া হবে।