চাঁচলে জমি বিবাদের জেরে সংঘর্ষ, মৃত ১, আহত ৪

706

মুরতুজ আলম, চাঁচল: জমি বিবাদের জেরে রণক্ষেত্র চেহারা নিল চাঁচল থানার চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের যদুপুর এলাকা। মঙ্গলবার দুই পক্ষের জমি বিবাদের জেরে সংঘর্ষে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। চলে কয়েক রাউন্ড গুলিও। গুলিতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। দুই পক্ষের আহত হয়েছেন ৪ জন। ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মমরেজ আলি(৪০)। তিনি পেশায় প্যান্ডেল ব্যবসায়ী ছিলেন। এছাড়া আহত মমরেজের দাদা মহসিন আলি(৫৫) সহ আরও ২জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে মহসিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন যদুপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নেজামুদ্দিন তাঁর বাড়ি লাগোয়া জমিতে বেড়া দিয়ে ঘেরার কাজ করছিলেন। বিতর্কিত জমির পরিমাণ পনেরো শতক। সেইসময় প্রতিবেশী সুকবর আলি সেখানে হাজির হয়ে নেজামুদ্দিনকে বেড়া দিতে বারণ করেন। সুকবরের দাবি, ওই জমি তাঁর। অন্যদিকে, নেজামুদ্দিনের দাবি, ওই জমি তাঁর পরিবারের লোকজন দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ভোগ করছেন। জানা গিয়েছে, ওই বিতর্কিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ হামেশাই লেগে থাকত। এইনিয়ে গ্রামে সালিশি সভাও হয়। তবে কোনও সুরাহা হয়নি। যার জেরে এই ঘটনা। নেজামুদ্দিন ও সুকবর দু’জনই ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা দাবি করায় এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। সেই ঘটনাই সংঘর্ষের আকার নেয়। এরই মধ্যেই সুকবরের ছেলে শেখ বাবলু ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাজির হন। বাবলু তিন রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সেইসময় একটি গুলি লাগে নেজামুদ্দিনের ভাইপো মমরেজের গায়ে। আহত হন মমরেজের দাদা মহসিন আলিও। সংঘর্ষের জেরে সুকবর ও তাঁর স্ত্রীও আহন হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। মমরেজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি মালদা নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। জখম মমরেজের দাদা মহসিনকে মালদা মেডিকেলে তালের পাঠানো হয়েছে। বাকিরা চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতের স্ত্রী লাকি বিবি জানান, তাঁর স্বামী বাড়ির পিছনে মারপিটের খবর পেয়ে সেখানে যান। এরপরই এই ঘটনা ঘটে। মৃতের মা মালেকা বিবির অভিযোগ, পাঁচজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুইভাই মাছু শেখ ও আমিন আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে মূল অভিযুক্তরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্তে করছে চাঁচল থানার পুলিশ।