বামেদের চেয়েও বাংলায় ভোট কমেছে কংগ্রেসের

165
প্রতীকী ছবি

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : ভোট বেড়েছে সিপিএমের। অবাক হলেও এ তথ্য সত্যি। কিন্তু ব্যাপক হারে ভোট কমেছে কংগ্রেসের। এর ফলে ফের জোটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। ভোটের সার্বিক ফলাফলের নিরিখে বামেরা যে রক্তশূন্য, তা বলাই যায়। ব্যাপক ক্ষয় হয়েছে কংগ্রেসের ভোটেও। এককভাবে সিপিএমের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ৪.৭৩ শতাংশ ভোট। বামেরা মিলে পেয়েছে ৫.৬৭ শতাংশ ভোট।

কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ মাত্র ২.৯৩। গত লোকসভা নির্বাচনে আলাদা লড়ে বামেদের ঝুলিতে গিয়েছিল ৬.৩৪ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস পেয়েছিল ৫.৬৭ শতাংশ ভোট। আপাতভাবে দেখলে মনে হবে গত লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে ভোট কমেছে বাম ও কংগ্রেসের। কিন্তু মনে রাখতে হবে এবার ছিল বাম-কংগ্রেসের জোট। তাই এবার ফলাফলের  হিসেব সার্বিক ভাবে ২৯৪টি আসনের নিরিখে না করে যে দল যে কটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে অর্থাৎ স্ট্রাইক রেটের নিরিখে দেখলে দেখা যাবে ভোট বেড়েছে সিপিএম এবং আরএসপির। ব্যাপক ভোট কমেছে কংগ্রেসের। ভোট কমেছে সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকেরও।

- Advertisement -

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে যে ১৩৮টি আসনে সিপিএম লড়েছিল গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ওই আসনগুলিতে ৫ লক্ষ ১১ হাজার ১৯১ টি ভোট বেশি পেয়েছে। শতাংশের হিসেবে ১.১৮ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে সিপিএম পৌঁছেছে ৯.৮৮ শতাংশে। আরএসপি ১০টি আসনে লড়ে গত লোকসভার তুলনায় ওই আসনগুলিতে ১.০১ শতাংশ ভোট অর্থাৎ প্রায় ২৭,০২০টি ভোট বাড়িয়েছে।

কংগ্রেস ৯১ টি আসনে লড়ে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২.০৬ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার মান রেখেছে একমাত্র আইএসএফ। তারা যে ২৮ টি আসনে লড়েছে সেই আসনগুলিতে গত লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত বাম ভোটের নিরিখে তারা প্রায় ৬.৬ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে ১৩.৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের মত, যে কংগ্রেসকে সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিশ্চিন্ত আশ্রয় ভেবে এসেছে, তারাও এবার কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যে কারণে মালদা-মুর্শিদাবাদেও ভরাডুবি হয়েছে তাদের। কারণ, আইএসএফের সঙ্গে জোটে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এদিন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ সাফ বলেন, আইএসএফের সঙ্গে জোট করেই পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ক্ষতি হয়েছে। অধীর চৌধুরিও প্রথম থেকেই আই এস এফের সঙ্গে জোটে রাজি ছিলেন না। বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ ভট্টাচার্য বলেন, কংগ্রেস আইএসএফের সঙ্গে জোট করেনি। কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট করেছে। আমরা তো রানিনগর, জলঙ্গির মতো আসনে ওদের বিরুদ্ধে লড়েছি।

প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, এনআরসি-সিএএ নিয়ে বিজেপির আগ্রাসী প্রচারের বিরুদ্ধে কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার মানুষ অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সংঘবদ্ধভাবে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। যার ফলে কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক তৃণমূলের দিকে গিয়েছে। আমাদের ভোট লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও এ কথা আমাদের অস্বীকার করার জায়গা নেই যে আমরা মানুষকে বুঝতে পারিনি। তাই এখন মানুষকে বোঝাতে তাঁদের কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।