ফের মোদি সরকারকে বেনজির আক্রমণ রাহুলের

282

নয়াদিল্লি: ফের মোদি সরকারকে বেনজির আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। এবারের ইস্যু চিনাপণ্য বয়কট তথা ৫৯ চিনা অ্যাপ বয়কটের সরকারি ঘোষণা। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির দাবি, এই সরকার মুখে দেশের মাটিতে উৎপাদনের কথা বললেও আসলে চিনা পণ্য আমদানিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। নিজের যুক্তির স্বপক্ষে একটি পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। রাহুল গান্ধি বলেছেন, সরকার মুখে বলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, অথচ জিনিস কেনে চিন থেকে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়ার দামামা যতই মোদি সরকার বাজাক না কেন, কার্যক্ষেত্রে বতর্মান সরকারের আমলে চিন নির্ভরতা বেড়েছে, দাবি রাহুল গান্ধির। নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ভারতে চিনা পণ্য আমদানির একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন রাহুল। সেই পরিসংখ্যানে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে ভারত চিন থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করত, তার চেয়ে মোদি জমানায় অনেক বেশি চিনা পণ্য আমদানি করা হয়, বলে দেখানো হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মনমোহন সিং জমানায় অর্থাৎ ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ভারতের চিনা পণ্য আমদানির হার ছিল ১৪ শতাংশের নিচে। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তা বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ।

- Advertisement -

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরার পাশাপাশি রাহুলের দাবি, “পরিসংখ্যান কখনও মিথ্যে বলে না। মোদি সরকার মুখে বলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কথা। আর জিনিস কেনে চিন থেকে।”

উল্লেখ্য,পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিনা সেনা সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃ্ত্যু হয়। জখম হন ৮৬ জন। সেই সংঘর্ষে চিনা জওয়ানদেরও মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ জুনের সেই সংঘর্ষে পর থেকে নেট দুনিয়ায় চিনা পণ্য বয়কটের আহ্বান করেন নেটিজেনরা। সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছে কেন্দ্রও। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টিকটক, ইউসি ব্রাউসারের মতো জনপ্রিয় চিনা অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, কেন্দ্রের এই নিষেধাজ্ঞা নেহাতই পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো। কারণ, প্রতিবছর ভারত ও চিনের মধ্যে যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক লেনদেন হয়, তার উপর এই নিষেধাজ্ঞার সে অর্থে কোনও প্রভাবই পড়বে না।