ডেপুটেশন দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার বিধায়ক

রামপুরহাট: লকডাউনের সময় বিদ্যুতের বিল মকুব, পরিযায়ী শ্রমিকদের ছ’মাস ভাতা দেওয়ার দাবিতে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন বীরভূমের হাঁসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন বিধায়ক, ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক দীপক চট্টোপাধ্যায়কে। ঘণ্টাখানেক পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবিতে মহকুমা শাসকের অফিসে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল। সেই মত এদিন বেলা ১০টা নাগাদ রামপুরহাট শহরের পাঁচমাথা মোড়ে জমায়েত হন দলের নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব বর্মণ, সঞ্জীব মল্লিক, কংগ্রেসের রামপুরহাট শহর সভাপতি সাহাজাদা হোসেন কিনু, ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা নেতা কামাল হাসান সহ অনেকে।

- Advertisement -

দুই সংগঠনের কিছু সদস্য পাঁচ মাথার মোড়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প সংখ্যক জমায়েত করে মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিতে যাচ্ছিলেন। সে সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপরেই পুলিশ দুই সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সাহাজাদা হোসেন বলেন, আমাদের দাবি ছিল লকডাউনের সময় বিদ্যুৎ বিল মুকুব, পরিযায়ী শ্রমিকদের এককালীন ১০ হাজার এবং ছমাস সাড়ে সাত হাজার টাকা করে ভাতা দিতে হবে। কিন্তু পুলিশ আমাদের মহকুমা শাসকের অফিস পর্যন্ত যেতেই দিল না।

সঞ্জীব বর্মন বলেন, ২১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদায়ের সুর ছিল। শাসক দল পুলিশ দিয়ে যতই আন্দোলনকে রোখার চেষ্টা করুক, চোর সরকারের পতন রোখা যাবে না। মিল্টন রশিদ বলেন, শাসক দল ব্লকে ব্লকে কর্মী সভা করবে। ২১ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভায় বুথে বুথে জমায়েত করে বক্তব্য শুনতে পারবে। কিন্তু বিরোধীরা কোনও কর্মসূচী করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী হিটলারি শাসন চালাচ্ছেন। এভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

দীপক চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে। শাসক দল সভা-সমিতি করতে পারবে। তাদের ক্ষেত্রে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। বরং পুলিশ তাদের সভা করার জায়গা করে দিচ্ছে, নিরাপত্তা দিচ্ছে। শুধুমাত্র বিরোধীরা চোর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেই তাদের গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তবে মানুষ সচেতন, এর জবাব মানুষই দেবে।

আইএনটিইউসির জেলা সভাপতি মৃণাল বসু বলেন, সরকার পুলিশ লেলিয়ে যতই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করুক তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সরকার বদল হবেই। এদিকে এদিন বিজেপি ও এসইউসিআইয়ের পক্ষ থেকেও বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে অফিসে বিক্ষোভ দেখানো হয়।