সহমতের ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক ‘ধর্ষণ’ নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

165
সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহবাস করলে সহমতের ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভাঙলে তাকে ধর্ষণের পর্যায়ে ফেলা যাবে না বলেও জানানো হয়।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করা দুই কল সেন্টার কর্মীর মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার একথা জানায় পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, একে অন্যকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করতেন দুই কল সেন্টার কর্মী। বছর পাঁচেক একসঙ্গে থাকার পর তাঁদের সম্পর্কে চিড় ধরে। সম্পর্ক ভাঙার পর ওই যুবক অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু সহবাস করা ওই তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং ভি রামাসুব্রহ্মণিয়নের বেঞ্চে। এই বেঞ্চের কথায়, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক নয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভাঙা উচিত নয় কোনও মহিলারও। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, দীর্ঘদিন ধরে সহবাস এবং সহমতের ভিত্তিতে যৌন মিলনকে ধর্ষণ বলে দেগে দেওয়া যায়।

- Advertisement -

ওই যুবকের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, সহমতের ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ককে যদি ধর্ষণ হিসেবে ধরা হয় এবং তার জেরে কেউ গ্রেপ্তার হন, সেটা বিপজ্জনক প্রবণতা হয়ে উঠতে পারে। উলটো দিকে অভিযোগকারিণীর আইনজীবী পালটা প্রশ্ন তোলেন, ওই যুবক গোটা বিশ্বের সামনে ঘোষণা করেছেন তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকছেন এবং একটি মন্দিরে বিয়ে করেছেন। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন এবং তাঁর মক্কেলকে শারীরিক নিগ্রহ ও আর্থিক শোষণ করেছেন। শেষে ওই যুবককে আট সপ্তাহের জন্য গ্রেপ্তারিতে সুরক্ষাকবচ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ সালে এই ধরনেরই ২টি মামলাতেও প্রায় একই ধরনের পর্যবেক্ষণ ছিল শীর্ষ আদালতের।