নিকাশিনালা বন্ধ করে বহুতল, প্রশাসন নীরব

নকশালবাড়ি : নকশালবাড়িতে পূর্ত দপ্তরের রাস্তার পাশে নিকাশিনালা বন্ধ করে বহুতল তৈরি হয়েছে। এমনকি নিকাশিনালার মাঝখানে সিমেন্টের পিলার তুলে বাড়ির সিঁড়ি ও দোকান তৈরি করা হচ্ছে। নকশালবাড়ি পানিঘাটা মোড়ের কার্গিল দ্বীপের নীচে থাকা এই নিকাশিনালা বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর ফলে সেখানে জল জমে মশার আঁতুড় তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রকাশ্যে রাস্তার ধারে নিকাশিনালা বন্ধ করে নির্মাণ চললেও প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে বলে অভিযোগ। নকশালবাড়ি পানিঘাটা মোড় থেকে খেমচি নদী পর্যন্ত এই নিকাশিনালা স্থানীয়দের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নকশালবাড়ির জনবহুল রাস্তার ধারে এমন অবৈধ নির্মাণ হলেও প্রশাসনের ভূমিকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ বছর আগে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট ফান্ড দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নকশালবাড়ি পানিঘাটা মোড় এলাকায় পূর্ত দপ্তরের রাস্তার ধারে বিশাল একটি নিকাশিনালা করা হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের সুযোগে নিকাশিনালা দখল করে তার ওপর বেশ কয়েকটি দোকানঘর ও বাড়ি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল্ডিংয়ের নকশার অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে বহুতল নির্মাণ চললেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

- Advertisement -

তাঁদের অভিযোগ, ওই পরিবারের সদস্যরা অনেকদিন ধরেই নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বাড়ই জানান, মাসদুয়েক আগে খেমচি নদীর পাশে একটা দোকানঘর তৈরি করায় আমাদের দলের এক মহিলাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এখনও তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়নি। কিন্তু একই জায়গায় পূর্ত দপ্তরের রাস্তার পাশে নিকাশিনালা বন্ধ করে দিনের আলোয় তৈরি করা হচ্ছে বিশাল দোকানঘর এবং বাড়ি। প্রশাসনের সবার ক্ষেত্রেই সমান পদক্ষেপ করা উচিত। এক্ষেত্রে কেন প্রশাসন অন্ধ হয়ে আছে?

যদিও এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অরুণ ঘোষ বলেন, নিকাশিনালা অতিগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নিকাশিনালার ওপর নির্মাণ হয়েছে বলে আমি অভিযোগ পেয়েছি। তবে বর্তমানে আমরা কিছু করতে পারব না। অন্যদিকে নকশালবাড়ির বিডিও অরিন্দম মণ্ডল বলেন, আমি এই বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করব।