মাথাভাঙ্গা পুরসভার তৈরি ফুটপাথে ব্যবসায়ীদের ঝুপড়ি

299

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের লক্ষ্যে এবং পথচারীরা যাতে রাস্তার ধার দিয়ে সুষ্ঠুভাবে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য  মাথাভাঙ্গা শহরের ইমিগ্রেশন রোডের দুধারের বেশ কিছু অংশে কংক্রিটের ফুটপাথ তৈরি করে লোহার রেলিং লাগিয়ে দিয়েছিলেন পুরসভার প্রথম নির্বাচিত পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান সিপিএমের মনোতোষ সরকার। তাঁর পরে পুরসভার চেয়ারম্যান হন সিপিএমের অরুণ চৌধুরি। সেই সময় পুরসভার টাকায় তৈরি লোহার রেলিং সহ কংক্রিটের ফুটপাথ দখল করে ব্যবসায়ীদের ঝুপড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিটি ঝুপড়ি থেকে দৈনিক ১০ টাকা করে পুর কর আদায় প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাথাভাঙ্গা শহরে নতুন করে কোনও ফুটপাথ তৈরি হয়নি। পুরসভার তৈরি ফুটপাথ থেকে ঝুপড়ি উচ্ছেদও হয়নি। উলটে শহরে একের পর এক ফুটপাথ দখলদারদের কবজায় চলে গিয়েছে।

২০১৫ সালে সিপিএম পরিচালিত বাম পুরবোর্ডকে নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী থাকাকালীন ফুটপাথ দখল নিয়ে বাম পরিচালিত পুরবোর্ডের সমালোচনা করলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে কোনও উদ্যোগ মাথাভাঙ্গাবাসীর চোখে পড়েনি। ফলে পুরসভার তৈরি ফুটপাথ দিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এ প্রসঙ্গে শহরের নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।

- Advertisement -

শহরের বাসিন্দা মাথাভাঙ্গা কলেজের ছাত্র সঞ্জীব শীলশর্মা বলেন, ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট তৈরির ফলে পথচারীরা ফুটপাথ দিয়ে নিরাপদে চলাফেরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফুটপাথ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। একই অভিযোগ মাথাভাঙ্গা কলেজের ছাত্রী প্রতীচ্ছা বর্মনের। তিনি বলেন, পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা জরুরি।

পুরভোটের আগে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। মাথাভাঙ্গা পুরসভার একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলার দিলীপকুমার মণ্ডল বলেন, পুরসভার টাকাতেই পথচারীদের যাতায়াতের জন্য ফুটপাথ তৈরি করা হল। আবার পুরসভাই সেখানে ব্যবসায়ীদের বসাল। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়। বিষয়টি  নিয়ে তৃণমূল পুরবোর্ডও কিছু করেনি। আগামী পুর নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবেন।

পুরসভা নির্মিত কংক্রিটের ফুটপাথে ঝুপড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরুণ চৌধুরি বলেন, হকাররা সেসময় রাস্তার উপর দোকানপাট নিয়ে বসতেন। স্থানীয় কাউন্সিলারের পরামর্শে ব্যবসায়ীদের কংক্রিটের ফুটপাথে বসানো হয়েছিল। মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, বাম পুরবোর্ডের সময়ই ফুটপাথ দখল করে হকারদের দোকান তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। হকারদের পুনর্বাসন দিয়ে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা বর্তমান পুরবোর্ডের রয়েছে।