ঝোরার গর্ভে রাস্তা, মাঝপথে বন্ধ পুনর্নির্মাণ

406

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে থেকে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়িহাটে ঢোকার দু’টি রাস্তার মধ্যে একটি রাস্তা নাককাটি ঝোরার পাড়ভাঙনে ভেঙে যায় জুলাই মাসে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে রাস্তা পুনর্নির্মাণ শুরু করে রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্থানীয়রা নাককাটি ঝোরার বালি তুলে ওই রাস্তার ভাঙা অংশ পুনর্নিমাণে আপত্তি  তোলায় কয়েকদিন পরই বন্ধ হয়ে যায় রাস্তার কাজ, খবর মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রের। স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা মেটেনি। মাসের পর মাস ধরে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষকে।

ওই রাস্তা দিয়ে শিশুবাড়িহাট, চাঁপাগুড়ি, ধূমচী সহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন দক্ষিণ শিশুবাড়ির বাসিন্দারা। সোম ও বৃহস্পতিবার ওই রাস্তা ব্যবহার করেন হাজার হাজার হাটুরে ও হাট ব্যবসায়ী। এছাড়া ওই রাস্তাটিই মিলপাড়ার বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শিশুবাড়ি চৌপথী, শিরিষতলা হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে সকলকে।

- Advertisement -

জুলাই মাসে রাস্তা নাককাটি ঝোরার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পর এফসি (১৫) ফান্ড থেকে তিনটি ধাপে রাস্তার ভাঙা অংশ তারজালি ও বোল্ডার দিয়ে পুনর্নিমাণের উদ্দেশ্যে ৮ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৬৬ টাকা বরাদ্দ করে রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাস্তা পুনর্নিমাণের জন্য ঝোরার বক্ষ খনন করে বালি তোলা হলে ফের পাড়ভাঙন শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কা করে বালি তোলায় আপত্তি জানান স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে কাজ।

শিশুবাড়ির বাসিন্দা তথা বিজেপির ১৮ নম্বর মন্ডলের সহসভাপতি মনোহর লাখোটিয়া বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ সমস্যায় ভুগছেন। কাজ নিয়ে টালবাহানা চলছে। ঠিকাদার নাককাটি ঝোরার বুকে জমে থাকা বালি তুলে কাজ করতে চাইছেন। কিন্তু ঝোরার বুকে খননকার্য চালালে পাড়ভাঙন বাড়তে পারে। এই আশঙ্কায় ঝোরার পাড়ের কৃষিজমির মালিকরা আপত্তি তুলেছেন। আমার প্রশ্ন, দূরের কোনও নদী থেকে বালি নিয়ে আসা হচ্ছে না কেন?’

এ প্রসঙ্গে রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রীণা শৈব কার্জি বলেন, ‘কাজ নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। আলোচনা করে রাস্তার ভাঙা অংশের পুনর্নির্মাণ দ্রুত শুরু করা হবে।’