জলপাইগুড়িতে অনুমতি ছাড়াই পুর এলাকায় রাস্তা

232

জলপাইগুড়ি :  জলপাইগুড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখে পুরসভা এলাকার মধ্যে নির্মাণকাজ চলছে। এমনকি নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের সরকারি কেবল কেটে ফেলার অভিযোগও উঠল এক বেসরকারি নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। এক সপ্তাহ আগে সব কাগজপত্র নিয়ে সংস্থার কর্মীদের পুরসভায় দেখা করতে বলা হলেও তাঁরা দেখা করেননি বলেও অভিযোগ। যে কারণে এবার আইন অনুযায়ী ওই সংস্থাকে চিঠি পাঠাতে চলেছে পুরসভা। অন্যদিকে যে জমিতে নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে, সেই জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। যদিও এদিন ওই সংস্থার ম্যানেজার জানিয়েছেন, পুরসভার কোনও নির্দেশ তাঁদের কাছে  আসেনি।

জলপাইগুড়ি শহরের স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পেছন দিকে ২৪ নম্বর এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে করলা নদীর দুই পাশ বাঁধাই করে সৌন্দর্যায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে করলা পাড়ের ওই জায়গার সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। শান্তিপাড়া থেকে শুরু করে শিল্পসমিতিপাড়া পর্যন্ত করলা নদীর দুই পাড় বাঁধাই করার পাশাপাশি সেখানে বসার জায়গা করা হয়। সেই সঙ্গে রকমারি বৈদ্যুতিক বাতিও লাগানো হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ওই জায়গা খুলে দেওয়া হয়, যা শহরবাসীর কাছে অ্যালি বলে পরিচিত। সম্প্রতি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অ্যালির পাশে গার্ডওয়াল তৈরি করতে গিয়ে সৌন্দর্যায়নের জন্য লাগানো বিদ্যুতের লাইটের কেবল কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পরেই নির্মাণের আগে পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

- Advertisement -

এই বিষয় নিয়ে পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড সদস্য সন্দীপ মাহাতো বলেন, ওই জায়গায় কে বা কারা কাজ করেছে সেই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর ছিল না। আমরা কাউকে অনুমতিও দিইনি। পরে জানতে পেরে পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপার্সন লোক পাঠিয়ে নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে পুরসভায় দেখা করতে বলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ দেখা করেনি। যে কারণে এবার আইন মোতাবেক তাদের চিঠি দিয়ে ডেকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, এই বিষয়ে ওই নির্মাণকারী সংস্থার ম্যানেজার গোপালকৃষ্ণ অধিকারী জানান, তাঁর কাছে পুরসভার কোনও ব্যক্তি আসেননি। এমনকি কাগজপত্র নিয়ে দেখাও করতে বলেননি। যে কারণে তাঁরাও দেখা করতে যাননি। অন্যদিকে, সদর ব্লক অফিসের নির্দেশে ওই জায়গা এবং নির্মাণের কাজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সদর ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। সদর ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক বিপ্লব হালদার বলেন, ব্লকের নির্দেশে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আমিন পাঠিয়ে ওই জায়গা মাপা হবে।