জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : বাজারের জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। বাজারের জমি দখলের পাশাপাশি নিকাশিনালাও দখল করেছে শাসকদল। এরকমই অভিযোগ তুলেছেন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা। বাজারের জমিতে বিরাট পার্টি অফিস তৈরির কাজ চলছে। প্রায় চার কাঠা জমির উপরে তৈরি হচ্ছে পার্টি অফিস। বাজারের জমি দখল করে কীভাবে রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুভাষচন্দ্র চন্দর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেই বাজারের জমি চেয়ে নিয়ে পার্টি অফিস তৈরি করছে। তিনি বলেন, তৃণমূল সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রাস্তা চওড়া করার প্রযোজন হলে আমরা অফিস ঘরের কিছু অংশ ভেঙে দিতে দ্বিধা করব না। পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সচিব স্মরজিত্ মিশ্র বলেন, পার্টি অফিস তৈরির জন্য তৃণমূল প্রথমে অনেকটা জায়গা নিয়েছিল। পরে বেশকিছু জায়গা ছেড়ে দেয়। বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পার্টি অফিস তৈরির জন্য ওদের ২০ ফুট জায়গা দেওয়া হয়েছে। পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বাজারের যে জমিতে (দাগ নম্বর ১৭৭৯/৩১৬২, ৭০০৭/১) তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, ১৯৬৮ সালে সেখানে বাজার গড়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে স্থায়ী দোকান নির্মাণের জন্য জমি কেনেন। পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি বাজারের এই জমিতে প্রাক্তন সাংসদ মিনতি সেনের সাংসদ উন্নয়ন তহবিল, সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন তহবিল এবং খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে খরচ করে বাজারের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। বাজারের প্রবীণ মিষ্টি ব্যবসায়ী যদুরাম রায় বলেন, কালীবাড়ির লাগোয়া জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। প্রথমে বাজারের অনেকটা জমি দখল করা হয়েছিল। নর্দমার উপরেও ভবনের পিলার বসেছে। ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে পরে তৃণমূল কিছু অংশ ছেড়ে দেয়। ফল ব্যবসায়ী বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, আমরা বাজারের জমিতে রাজনৈতিক দলের অফিস করার বিরোধী। অথচ শাসকদলের লোকেরা বাজারের জমিতেই পার্টি অফিস তৈরি করছে।

সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো বাজারের জমি দখল করে পাকা অফিস তৈরি করছে। এখানে জল জমার সমস্যা প্রকট। নালার উপরে পিলার থাকায় বর্ষায় জল দাঁড়িয়ে সমস্যা হবে। তাঁর অভিযোগ, তণমূল বাজার কমিটির জায়গা দখলের পাশাপাশি পূর্ত দপ্তরের জায়গাও দখল করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিকস্তরে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।