লকডাউনের সুযোগে মহানন্দার চরে নির্মাণকাজ

শিলিগুড়ি : লকডাউনের জেরে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। সাধারণ মানুষ যখন দুবেলা খাবারের জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন, তখন এই লকডাউনের সুযোগ নিয়ে অবাধে নদীর চর এলাকা দখল চলছে। নেটিজেনদের মতে, লকডাউনের জেরে নদী, প্রকৃতি নতুন করে বাঁচতে শুরু করেছে। তবে শিলিগুড়িতে মহানন্দা নদী যে ক্রমশ মৃত্যুর মুখে চলে যাচ্ছে, সেটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেই ত্রিপল, বাঁশ দিয়ে ধীরে ধীরে চর এলাকা দখলের ছবি দেখা যাচ্ছে শহরে। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় চর এলাকা সংলগ্ন বাসিন্দাদের একাংশই জড়িয়ে রয়েছেন। শুধু দখলই নয়, অবাধে নির্মাণকাজও চলছে মহানন্দার চরে।

শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া মহানন্দার চরের বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দখলদারদের কবলে। লকডাউনের জেরে নদী দূষণ বা দখলদারি কিছুটা কমবে বলে শহরবাসীর একাংশ মনে করলেও, আদতে যে তা হয়নি, সেটা চর দখলের নতুন কৌশল দেখলে বোঝা যায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামজানে বস্তি সংলগ্ন এলাকায় চরের একাংশ দখল করে ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছে। গ্রিন ট্রাইবিউনালের নির্দেশ অনুযায়ী, চর এলাকায় এরকম বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি অবৈধ। তবে এভাবেই অস্থায়ী ঘর তৈরি করে, সেই ঘরটি আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে অবাধে নির্মাণকাজ চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা মুখ খুলতে চাননি।

- Advertisement -

তবে শুধু ওই এলাকাই নয়, শহরের ৪৩, ৪, ১ নম্বর ওয়ার্ড সহ নদী চর এলাকার দুইধার বরাবর এভাবেই নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন উদাসীন বলে প্রবিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, এমনিতেই মহানন্দার চর এলাকা বলে কিছু নেই। যেটুকুও রয়েছে, সেটাও এই সংকটকালে দখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আমরা বারবার জানিয়েছি, কিন্তু যে কে সেই। যে যার ইচ্ছামতন স্থানীয় বল, রাজনৈতিক বল প্রয়োগ করে গোটা চর নিজেদের দখলে নিয়ে নিচ্ছে। এর ভয়ংকর ফল আমাদের কিন্তু সকলকেই ভুগতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো বলেন, এটা একেবারেই কাম্য নয়। প্রশাসনকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা নিজেরাও এ বিষয়ে লক্ষ রাখছি। যাঁরা এ ধরনের কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রশাসনের কাছেও অনুরোধ করব ব্যবস্থা নেওয়ার। শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় বলেন, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।