দুই দশকেও আশুতোষ হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : প্রচুর টাকা খরচ করে প্রায় দুই দশক আগে মাথাভাঙ্গা শহরের সর্বপ্রথম সাংস্কৃতিক মঞ্চ আশুতোষ হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অর্ধনির্মিত অবস্থায় হলটির টিনের চালা, মঞ্চের পর্দা, বিদ্যুতের ওয়্যারিং ও দেওয়ালের পলেস্তারা নষ্ট হয়েছে। হলটি চালু করতে হলে দর্শকদের বসার চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেম, আলোর ব্যবস্থা ছাড়াও যে সমস্ত জিনিস নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা নতুন করে লাগাতে হবে। মাথাভাঙ্গা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, হলটি চালু করতে হলে কমপক্ষে ৭০-৭৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্পে এত টাকার জোগান কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে সন্দিহান পুরসভা।

গত প্রায় দুদশকে আশুতোষ হলটি তৈরিতে প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সেটি চালু না হওয়ায় সেখান থেকে পুরসভার কোনও আয় হচ্ছে না। আর তাই পুরসভার অডিটের সময় এনিয়ে পুর কর্তপক্ষকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। মাথাভাঙ্গার প্রাক্তন পুরপ্রধান মনোতোষ সরকারের আমলে কাঠ ও টিনের তৈরি আশুতোষ হল ভেঙে সেখানে দোতলা ভবন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নীচের তলায় মার্কেট কমপ্লেক্স ও দোতলায় আধুনিক সুবিধাযুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের হলঘর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। রাজ আমলের নায়েব আহেলকার আশুতোষ ঘোষের নাতনি প্রখ্যাত লেখিকা রাধারানি দেবীর কন্যা নবনীতা দেবসেনকে দিয়ে ২০০৪ সালে হলটি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন মনোতোষবাবু। তবে ওই বছরই পুরপ্রধানের অকালপ্রয়াণে হলটি চালুর প্রক্রিয়া থমকে যায়।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে মাথাভাঙ্গার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। নাট্যদল মাথাভাঙ্গা গিলোটিনের সম্পাদক হিরণ্ময় দাস বলেন, আমরা যাঁরা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, আশুতোষ হল চালু না হওয়ায় সকলেরই অসুবিধা হচ্ছে। মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, হলটির নির্মাণকাজ শেষ করতে টাকার জন্য সব মহলেই যোগাযোগ করেছি। কিন্তু অসম্পূর্ণ কাজে টাকা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। এজন্য কমপক্ষে ৭০-৭৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। পুরসভার তরফে প্ল্যান এস্টিমেট করে মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে।