কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ায় জাতীয় সড়কের কাজ বন্ধ

902

কালিয়াচক : যানজটের জেরে সুজাপুর হাসপাতাল মোড় থেকে মালদা পর্যন্ত ১০ কিমি পথ আসতে সময় লাগছে আড়াই ঘণ্টা। কারণ হিসেবে জাতীয় সড়কের বেহাল দশাকেই দায়ী করেছেন কালিয়াচক ও সুজাপুরের বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজট বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা সকলেই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু ৬-৭ বছর ধরে কেন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ আটকে রয়েছে? দক্ষিণ মালদার সাংসদ থেকে শুরু করে সুজাপুরের বিধায়ক সকলেরই দাবি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও সড়ক সম্প্রসারণের কাজ আটকে আছে। হিন্দুস্তান কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার কারণে হয়তো কাজ বন্ধ রয়েছে।

কালিয়াচকের যানজট সমস্যা দূর করতে চৌরঙ্গি এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিল হিন্দুস্তান কোম্পানি। কিন্তু সেই কোম্পানি এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ রেখে কোম্পানি তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে য়েতে পারে বলে অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

- Advertisement -

এনএইচ-এর আধিকারিক দীনেশ হংসরিয়া বলেন, ‘জাতীয় সড়কের সব কাজই প্রায় শেষের দিকে। কালিয়াচক ১ বিডিও অফিস থেকে সুজাপুর হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত কিছুটা রাস্তার কাজ বাকি আছে। কিছু সমস্যার জন্য এই কাজ শেষ হয়নি। তার ওপর দীর্ঘ লকডাউনের ফলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে রাস্তার খানাখন্দগুলি ইট ও বালি দিয়ে মেরামতির কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলেই জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজটি শুরু হবে।’

দক্ষিণ মালদার সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির কাছে লিখিতভাবে জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সরাসরি দেখা করে তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে কথাও বলেছি। কিন্তু কেন যে কাজ হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না। আমি আজকালের মধ্যেই আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলব।’

জাতীয় সড়কের ওই বেহাল অংশটি সুজাপুর বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল দশায় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুজাপুরের বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েবার আমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও হিন্দুস্তান কোম্পানির ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কাজ করব বলে বারেবারে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। কিন্তু কাজ আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি হিন্দুস্তান কোম্পানিতে আর্থিক মন্দা চলছে। সেই জন্য কোম্পানি কাজটি ছেড়ে দিতে চাইছে। কারণ এই কাজ শেষ করার মতো অর্থ কোম্পানির কাছে নেই।’ বিধায়ক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমরা আর এইসব বুঝব না। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি শেষ করতে হবে। যদি অবিলম্বে কাজ শেষ না হয় তবে সুজাপুর বিধানসভার বাসিন্দাদের নিয়ে জাতীয় সড়কে বসে আন্দোলন শুরু করব। এছাড়া আমাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই। ইট বিছিয়ে বালি ঢেলে জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষ রাস্তা মেরামতি করছে। এইভাবে কালিয়াচকের মানুষের ঘায়ে মলম লাগানো হচ্ছে। আমরা চাই কাজটি অবিলম্বে শেষ করা হোক।’

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, হিন্দুস্তান কোম্পানিতে আর্থিক মন্দা চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানি টোলপ্লাজার কর্মীদের বছরখানেক ধরে বেতন দিচ্ছে না। গরিব কর্মীরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। বৈষ্ণবনগর টোলপ্লাজার সামনে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বেতনের দাবিতে আন্দোলনও করেছেন।

বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা পেশায় গাড়ি ব্যবসায়ী জান্নাত আলি বলেন, ‘সুজাপুরে জাতীয় সড়কের কাজ শেষ করার জন্য আমরা এর আগেও বহুবার আন্দোলন করেছি। আমরা শুনেছি হিন্দুস্তান কোম্পানি নাকি এই কাজ ছেড়ে দেবে। আর্থিকভাবে কোম্পানিটি ভেঙে পড়েছে। ওই কোম্পানির বদলে অন্য একটি কোম্পানি রাস্তার কাজ শুরু করবে। জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, যতদিন নতুন কোম্পানি এসে কাজ শুরু না করছে, ততদিন ইট, বালি দিয়ে রাস্তা মেরামতির কাজ চলবে। কিন্তু আমরা কর্তপক্ষকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি রাস্তা সম্পূর্ণ ঠিক না হলে আমরা টোল ট্যাক্স দেব না। জাতীয় সড়কের বেহাল দশার জন্য গাড়ি চালাতে অসুবিধা হয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর পিছিয়ে যাচ্ছে। যে কোনওভাবে বাকি কাজ শেষ না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।’

মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিজেপি সরকার দেশের উন্নতির জন্য আসেনি। তারা মানুষের ক্ষতি করছে। মালদায় বিজেপির একজন সাংসদ আছেন। তিনি রাজ্য সরকারের ভুল ধরতেই ব্যস্ত থাকেন। অথচ সাধারণ মানুষ য়ে জাতীয় সড়কের বেহাল দশার জন্য নাজেহাল হচ্ছেন সে বিষয়ে তাঁর কোনও খেয়াল নেই। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ ৬ বছর ধরেও শেষ হয়নি। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি কিছু বলছেন না।’

তথ্য ও ছবি- সেনাউল হক