৯ মাস বেতন না পেয়ে বিক্ষোভ নির্মাণশ্রমিকদের

তনয় মিশ্র, মালদা : নয়মাস ধরে বেতন মিলছে না। পুজোর মুখে বকেয়া বেতন না মিললে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের এক নির্মাণকারী সংস্থার শতাধিক কর্মী। শুধু তাই নয়, বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন শুরু করেছেন তাঁরা। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ।

অভিযুক্ত নির্মাণকারী সংস্থার নাম হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। বুধবার সকালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বৈষ্ণবনগরের ১৮ মাইল এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সংস্থার দপ্তরের সামনে শতাধিক অস্থায়ী কর্মী অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন। বেতন না পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতা এবং দ্বিচারিতাকেই দায়ী করেছেন অস্থায়ী কর্মীরা। তৃণমূলের অল ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উদ্যোগে এদিন এই অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। বিক্ষোভের জেরে ১৮ মাইল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভের খবর পেয়ে অস্থায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এইচসিসির কর্তারা। যদিও তাঁদের আশ্বাসে চিঁড়ে ভেজেনি। নিজেদের দাবিতে রাস্তার ধারে বসেই লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে গিয়েছেন শতাধিক শ্রমিক।

- Advertisement -

বিক্ষোভকারী শ্রমিক রাকেশ সিং, রমেশ দাসদের বক্তব্য, গত নয় মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন পান। নয় মাসে কারোর দুই লক্ষ, আবার কারোর আড়াই লক্ষ বকেয়া হয়ে গিয়েছে। করোনা আবহে পরিবার চালাতে চরম সংকটে পড়েছেন। পুজোর মরশুমে বেতন নেই। এই পরিস্থিতিতে নির্মাণকারী সংস্থা কোনওভাবেই তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বেতন না পেয়ে এখন প্রায় অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। এই অবস্থায় বকেয়া বেতন না দেওয়া হলে আরও বড় আন্দোলনে নামার কথা ভাবছেন তাঁরা।

তৃণমূলের অল ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুনীল সরকার বলেন, এইচসিসির অধীনে মালদা জেলায় ১১০০ শ্রমিক কাজ করছেন। গত নয় মাস ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি। শ্রমিকেরা এখন পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন। আমরা দলের তরফ থেকে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। পাশাপাশি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বুধবার থেকে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ অবস্থান চলবে। আগামী ৮ অক্টোবর টোল প্লাজায় টোল ট্যাক্সের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু করা হবে। আমরা চাই, ওই নির্মাণকারী সংস্থা দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।

এইচসিসির মালদার প্রোজেক্ট ম্যানেজার গৌতম বিশ্বাস জানান, এই সমস্যা শুধু শ্রমিকদের নয়। অফিসের কোনও কর্মী ও আধিকারিকই বেতন পাচ্ছেন না। তবে দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, পুজোর মাসে সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। আমরা চাই, শ্রমিকরা যাতে বিক্ষোভ থেকে সরে আসেন। তাতে জাতীয় সড়ক সংস্কার এবং সম্প্রসারণের কাজে সুবিধা হবে।