সর্ষের তেলে ভেজাল, অভিযান উত্তর দিনাজপুরে

188

রায়গঞ্জ: সর্ষের তেলে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে এখানে ভেজাল তেল তৈরির কাজ চলছে। এক ঝলকে আসল নকলের পার্থক্য করা সম্ভব নয়। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে এমনই তথ্য মিলেছে। সম্প্রতি পুলিশের সাহায্য নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন ব্লকে সর্ষের তেলের মিলগুলিতে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা। যদিও তল্লাশির খবর মিলতেই ভেজাল তেল কারবারিরা কারখানার দরজায় তালা ঝুলিয়ে চম্পট দিয়েছিল। ফলে ফিরে আসতে হয়েছিল প্রশাসনের কর্তাদের।

তবে, মিল সংলগ্ন রাস্তায় বিহার থেকে আসা তেল বোঝাই একটি ট্যাঙ্কার নজরে আসে তাদের। সেখান থেকেই জানা যায়, মিলগুলিতে সর্ষে তেল তৈরির আড়ালে ভেজাল তেল তৈরির কারবার অনেকদিন ধরেই চলছে। বাইরে থেকে আসা বিশালাকার ট্যাঙ্কারে সর্ষের তেল থাকে না। সবই পাম অয়েল। সস্তার ওই তেল কিনে রায়গঞ্জের তেল কারখানায় মজুত করা হয়। এরপর পাম তেলের সঙ্গে অবিকল সর্ষের তেলের রং এবং ঝাঁঝ আনতে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক মেশানো হয়। এই কাজ অত্যন্ত গোপনে চলে। কারখানায় বাইরের লোকজনের প্রবেশের অধিকার নেই। এমনকি গাড়ির চালকরাও ভেতরে পা রাখতে পারে না। তেলে রং ও ঝাঁঝ তৈরি হয়ে গেলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টিন অথবা বোতলে ঢেলে মুখ বন্ধ করা হয়। এরপরই তা ট্রাকে বোঝাই হয়ে পাড়ি দেয় বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাজারে। শুধুমাত্র রাজ্যের বাইরে নয়, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রত্যন্ত এলাকার দোকানেও এই ভেজাল তেল সরবরাহের কাজ চলছে। বেশি লাভের আশায় শহরের কিছু ব্যবসায়ী ওই বিষাক্ত তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। এমনকি বিভিন্ন স্কুলের শিশুদের মিড ডে মিলের রান্নাতেও ভেজাল তেলের ব্যবহার চলছে। তাই অসুস্থতার আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাঁটি সর্ষের তেল খোলাবাজারে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু ভেজাল সরিষার তেল ১৩০ টাকা থেকে ১৫০টাকা লিটার দামে বিক্রি হয়। তাই হাট ও বাজারের বিক্রেতাদের নজর থাকে সেদিকে। অন্যদিকে, ভেজাল তেলের রান্না খেয়ে বিপাকে পড়ছেন উপভোক্তারা।

- Advertisement -

জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বিজয় কুমাই জানান, বিভিন্ন মিলের তেলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরীর অভিযোগ, উত্তর দিনাজপুর জেলায় গ্রামেগঞ্জে ভেজাল তেল বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন তৎপর হলেও মানুষকে সচেতন হতে হবে।