জলপাইগুড়িতে কচুবনে চারুচন্দ্র, ঝুলমাখা রবীন্দ্রনাথ

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারে রবীন্দ্রনাথের মূর্তির মুখ মাকড়সার জালে ছেয়ে রয়েছে। মূর্তির চারদিকে আগাছাও বেড়েছে। চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তির চারদিকে কচু গাছে ছেয়ে গিয়েছে এবং বড় বড় গাছের ডালে মূর্তিটি ঢেকে রয়েছে। গ্রন্থাগারের প্রবেশপথের দুধারেই রবীন্দ্রনাথ এবং চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তি রয়েছে। গ্রন্থাগারের আধিকারিক সহ কর্মীরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু বিষয়টি তাঁদের চোখেই পড়ে না। গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটির সদস্য শান্তনু ধর বলেন, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। কেন রবীন্দ্রনাথ এবং চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তির অবমাননা করা হয়েছে তার কারণ জানতে চাওয়া হবে। জেলা গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটি বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, জলপাইগুড়ির মাথা হেঁট করে দিয়েছে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। রবীন্দ্রনাথের মূর্তি মাকড়সার জালে ছেয়ে যাওয়ায় তা দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি কীভাবে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের নজর এড়াল তা বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ির অহংকার চারুচন্দ্র সান্যাল। চারুবাবুর মূর্তিকে ঘিরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা চোখে পড়ছে। মূর্তির চারদিক এখন কচু গাছে ভরে রয়েছে। এটা আমাদের কাছে লজ্জার এবং অপমানের। গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটির প্রাক্তন সদস্য অধ্যাপক সুভাষ কর্মকার অভিযোগ করেন, গ্রন্থাগারের পরিচালন ব্যবস্থার কী হাল তা রবীন্দ্রনাথ এবং চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তির অবমাননার ঘটনায় বোঝা যায়।

- Advertisement -

সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় অভিযোগ করেন, জেলা গ্রন্থাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্কৃতির হাল কী পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মানুষ অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছেন। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রনাথ এবং চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তির অবমাননার জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। বিধায়ক ডঃ সুখবিলাস বর্মা বলেন, জেলা গ্রন্থাগার ভবনে রবীন্দ্র জয়ন্তী হয় না। রবীন্দ্রনাথের মূর্তিকে অবমাননা করা হচ্ছে। বিশিষ্ট নৃতাত্ত্বিক চারুচন্দ্র সান্যালের মূর্তির চারদিক আগাছায় ভরে উঠেছে। এসব দেখে শহরের মানুষের সঙ্গে আমিও লজ্জিত এবং অপমানিত বোধ করছি। অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।