বিল না পেয়ে অনশনে ঠিকাদাররা

335

রাঙ্গালিবাজনা: কাজ করার দীর্ঘদিন পরও বকেয়া বিল। মঙ্গলবার সেই বকেয়া বিলের দাবিতে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের বারান্দায় ঠিকাদাররা অনশনে বসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মাদারিহাটের পুলিশকর্মীরা। পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলমের উপস্থিতিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ অনশন তুলে নেন তাঁরা।

ঠিকাদাররা জানান, গত বছর শিশুবাড়ি হাটে যাওয়ার রাস্তাটি নাককাটি ঝোরার জলের তোড়ে ভেঙে যায়। ওই বছরের অগাস্ট মাসে রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বোল্ডারের পাড়বাঁধ ও রাস্তা তৈরির জন্য তিনটি ভাগে কাজ বিভক্ত করে টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নুর হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজার রহমান নামে তিন ঠিকাদার সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার বরাত পান। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও বিল না পেয়ে ঠিকাদার নুর হোসেন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। সেই চিঠির জবাবে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, ওই কাজগুলি সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় নি। তাই বিল মেটানো সম্ভব নয়।

- Advertisement -

ঠিকাদারদের অভিযোগ, এদিন তাঁরা ফের গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে বিল মেটানোর দাবি করায় গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা তাদের জানান, ওই কাজের কোনও নথি গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে নেই। এরপরই অনশন বসেন তাঁরা।

গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, গত বছর রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের পারদ চড়ছিল। তাই তড়িঘড়ি অ্যাকশন প্ল্যান ছাড়াই ইমার্জেন্সি স্কীমে কাজের টেন্ডার ডাকা হয়। কিন্তু পরে সেগুলি পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় নি। স্বাভাবিকভাবেই বিল মেটানোর প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছে। তবে ওই ঠিকাদারদের প্রাপ্য বিল মেটানোর জন্য বিডিওর কাছে কাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিডিওর নির্দেশে জয়েন্ট বিডিও গত বৃহস্পতিবার কাজ পরিদর্শন করেছেন। খুব শীঘ্রই বিল মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা ভারপ্রাপ্ত প্রধান কৃষ্ণ ওরাওঁ।