পলাশবাড়িতে পথশ্রী অভিযানে রাস্তা সংস্কারের শিলান্যাস নিয়ে বিতর্ক

456

পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পলাশবাড়িতে পথশ্রী অভিযানের আওতায় একটি রাস্তা সংস্কারের শিলান্যাস করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন প্রশাসনের কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা শিলান্যাস করেন। বাসিন্দাদের একাংশ ও বিরোধী পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি, রাস্তা সংস্কারের জন্য এভাবে কখনও শিলান্যাস করা হয় না। এছাড়া সংস্কারের দায়িত্ব এখনও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। তাহলে পথশ্রী অভিযানের আওতায় কেন ওই রাস্তার কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা এব্যাপারে সঠিক জবাব দিতে পারেনি। তারা সবাই দায় এড়িয়ে গিয়েছে।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পুঁটিমারি মোড় থেকে দক্ষিণে কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙ্গার দিকে চলে গিয়েছে একটি পাকা রাস্তা। ২০১৮ সালে বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তাটি পাকা করা হয়। কাজের সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। অথচ আলিপুরদুয়ার জেলার পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে থাকা ওই রাস্তার ১.২ কিমি অংশ সংস্কারের জন্য এদিন শিলান্যাস করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে আলিপুরদুয়ার-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত রাভা, পূর্ব কাঁঠালবাড়ির প্রধান সরোদিনি বর্মন, উপপ্রধান সৌরভ পাল সহ প্রশাসনের অন্য কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে পথশ্রী অভিযানের আওতায় রাস্তা সংস্কারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা জনপ্রতিনিধিদের কেউ জানাতে পারেননি।

- Advertisement -

সিপিএমের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য জীবন সরকার বলেন, ‘নতুন রাস্তার শিলান্যাস করা হয় জানি। কিন্তু কোনও রাস্তা সংস্কারের জন্য এভাবে ফিতে কেটে শিলান্যাস এই প্রথম দেখলাম। রাস্তা মেরামত করবেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এজন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। অথচ, সরকারের পথশ্রী অভিযানের আওতায় রাস্তা সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হল। এসব যুক্তিহীন।’ স্থানীয় বাসিন্দা মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘এদিন যা হল, তা অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।’

এবিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত রাভা বলেন, ‘এটা রাজ্য সরকারের পথশ্রী অভিযানের কাজ। আমন্ত্রিত হিসেবে আমি ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বিতর্কের বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ পূর্ব কাঁঠালবাড়ির উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘বিষয়টি ভালোভাবে জানা নেই। তবে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় পুরো বিষয়টি প্রশাসনের উপরমহলে জানাব।’