ফালাকাটায় সরকারি অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে বিতর্ক, কটাক্ষ বিজেপির

485

ফালাকাটা: ফালাকাটায় একাধিক সরকার অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় থেকে ছোট নেতাদের হুড়োহুড়ি নিয়ে এবার সরব হল বিজেপি। বুধবার শহরের পারঙ্গেরপার গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তা ও নিকাশি নালার কাজের সূচনা অনুষ্ঠানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই কারণে সরকারি অনুষ্ঠান বয়কট করেন বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা। যদিও তৃণমূলের দাবি, এইসব অনুষ্ঠানে দলের যেসব নেতারা উপস্থিত থাকছেন তাঁরা কেউ জনপ্রতিনিধি আবার কেউ সরকারি কোনও বোর্ডের প্রতিনিধি। বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

আগামী নভেম্বর মাসেই ফালাকাটার আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় একের পর এক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন হচ্ছে। এদিনের পারঙ্গেরপারে সরকারি প্রকল্পের সূচনা প্রসঙ্গে ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘চলতি বর্ষায় রাস্তাগুলি খারাপ হয়। কিছু নিকাশিনালারও বেহাল পরিস্থিতি। এজন্য ৩০টি গ্রাভেল রাস্তা ও ৭টি কংক্রিট সিমেন্টের ড্রেন তৈরি হবে। এজন্য প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।’

- Advertisement -

প্রশাসনের তরফে এদিনের অনুষ্ঠানে বিজেপির পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদেরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠান বয়কট করেন। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য বিনয় সরকার বলেন, ‘অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি, তৃণমূলের বড় বড় নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সেজন্য অনুষ্ঠান বয়কট করি৷ আর কোন রাস্তা কোথায় তৈরি হবে সেটাও আমরা জানি না।’

ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির চন্দ্রশেখর সিনহা বলেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠান তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় আমরা ফিরে আসি।’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘ফালাকাটায় একের পর এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মানুষকে প্রভাবিত করছেন তৃণমূল নেতারা। ওরা প্রশাসনের আধিকারিকদেরকে ব্যবহার করছে। উপনির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।’

তবে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলের ফালাকাটা ব্লক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ রায় বলেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠানে দলের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কোনও বোর্ডের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। প্রশাসনের আমন্ত্রণেই তাঁরা অনুষ্ঠানগুলিতে আসছেন। বিজেপি এসব না জেনেই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।’

তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘আমি ত্রাণ, উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন দপ্তরের উপদেষ্টা কমিটির রাজ্য চেয়ারম্যান পদে রয়েছি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইট-এর সদস্য। আমন্ত্রণ পাওয়ায় অনুষ্ঠানগুলিতে যাচ্ছি।’