একুশের ভোটে সৌরভের মূর্তিই বিরোধীদের অস্ত্র

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : পেরিয়ে গিয়েছে তিনটি বছর। কিন্তু এখনও বালুরঘাটে বসল না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মূর্তি। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই বালুরঘাট স্টেডিয়ামে নিজের মূর্তির উন্মোচন করেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বর্তমান বিসিসিআই চেয়ারম্যান। কিন্তু শুরুতেই শেষ। তারপর থেকে মূর্তিটি রয়ে গিয়েছে বালুরঘাট স্টেডিয়ামের আড়ালে। এতদিনেও দিনের আলো দেখেনি সৌরভের আট ফুটের ওই মূর্তি। এমনকি স্টেডিয়ামের গেটে মূর্তি স্থাপনের জন্য যে বেদিটি বানানো হয়েছিল, সেটিও ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সিএবির অ্যাপেক্স কমিটি ইডেন গার্ডেনে সৌরভ সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদের মূর্তি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বালুরঘাটে কেন সৌরভের মূর্তি বসানো হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন আজও ঘুরছে। লজ্জা কাটিয়ে দ্রুত ওই মূর্তিটি স্থাপন করার দাবিতে সরব হয়েছেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এমনকি সিএবির অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য গৌতম গোস্বামীও দীর্ঘদিন ধরে মূর্তিটি স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছেন। তবে বাংলার আইকন সৌরভের মূর্তি আদৌ এখানে বসানো হবে কি না তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

- Advertisement -

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সৌরভের মূর্তি যে বিরোধীদের ইস্যু হতে চলেছে, তা কিন্তু এখনই বলে দেওয়া যায়। তিন বছর আগে বালুরঘাট স্টেডিয়ামে বিকাশ ময়দানের মূল গেটের সামনে সৌরভের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানোর কথা ছিল। খোদ সৌরভ নিজের মূর্তি উন্মোচন করতে এসেছিলেন। কিন্তু দাদার মূর্তি বসানোর জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে কোনও অনুমতি ছিল না। তার জেরেই শুরু হয় আইনি জটিলতা। ফলে মূর্তি স্থাপন শিকেয় ওঠে। অনুষ্ঠান মঞ্চের পাশেই অস্থায়ীভাবে রাখা হয় মূর্তিটি। সেটারই উন্মোচন করে যান সৌরভ।

এরপরই রাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, এভাবে সৌরভকে একপ্রকার অপমান ও অপদস্থই করা হল। বিষয়টি নিয়ে ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। যেভাবে সৌরভের মূর্তি ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। পরে জানা যায়, আট ফুটের মূর্তিটিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট বিভাগের অফিসে যত্ন করে রাখা হয়েছে। তিন বছর ধরে সেখানেই রয়েছে মূর্তিটি। বালুরঘাট স্টেডিয়ামের পরিচালকদের মধ্যে এখনও বামপন্থীদের প্রভাব রয়েছে। জানা যাচ্ছে, সেই কারণেই ওই মূর্তি বসানোর কাজ আটকে যায় কোনও এক অজ্ঞাত ইশারায়।

এরই জেরে সৌরভের ওই মূর্তি আজও বসানো যায়নি। লজ্জাও কাটেনি বালুরঘাটের। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ঘটনাকে ইস্যু করেছিল বিরোধী দলগুলি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও এই ইস্যু সামনে রেখে লড়াইয়ে যাবে বিরোধীরা। বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাংলার গর্ব সৌরভের মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা নিয়েও বালুরঘাটে সেটা বসানো যায়নি। এটা শুধু বালুরঘাটের নয়, গোটা বাংলার লজ্জা। প্রশাসনের পক্ষে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত ওই মূর্তি বসানোর কাজ হোক। আমরা সেটাই চাই।

আরএসপির জেলা নেতা প্রলয় ঘোষ বলেন, কোনও এক অজ্ঞাতকারণে বালুরঘাটে সৌরভের মূর্তিটি বসানো আটকে দেওয়া হয়েছিল। অথচ সৌরভ নিজে এসেছিলেন মূর্তিটি উন্মোচন করতে। এই লজ্জার হাত থেকে বালুরঘাটকে মুক্তি দিতে শীঘ্রই সসম্মানে মূর্তিটি বসানোর ব্যবস্থা করা উচিত। তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস বলেন, সৌরভ আমাদের গর্ব। তাঁর মূর্তিটি কেন আজও বসানো হয়নি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু করেছি। খুব দ্রুত যাতে মূর্তিটি বসানোর ব্যবস্থা করা যায় তার জন্য আমরা উদ্যোগী হব।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি অমর সরকার বলেন, প্রশাসনিক জটিলতায় সেই সময় মূর্তিটি বসানো যায়নি। আজও পরিস্থিতির তেমন বদল হয়নি। মূর্তিটি স্থাপনের জন্য নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। সিএবির অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য গৌতম গোস্বামী বলেন, ইডেনে সৌরভের মূর্তি বসবে। কিন্তু তার অনেক আগেই আমরা বালুরঘাটে সৌরভের মূর্তি বসাতে উদ্যোগী হয়েছিলাম। কিন্তু বালুরঘাটে এসেও খোদ সৌরভকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে।