স্কুলঘর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করায় বিতর্ক

71

রায়গঞ্জ: করোনার কারণে প্রায় দু’বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি বন্ধ। যার ফলে স্কুলকেই খামার ঘর হিসেবে বেছে নিয়েছে কৃষকরা। গ্রামের একাংশ কৃষকরা স্কুলঘর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। স্কুলের ঘরে রাখা হয়েছে সিমেন্ট, রড সহ নির্মাণ সামগ্রী। রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদ ব্লকের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এহেন চিত্র দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক সহ সদস্যরা। এই সমস্ত স্কুলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের লোহাগাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্তরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগরোলঘাট শিশু শিক্ষা কেন্দ্র সহ একাধিক স্কুল মনে হবে কৃষি খামার।

শিক্ষাবিদ তপন ব্রহ্ম বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশের স্কুলের যা চেহারা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে স্কুল নয় সেটি কৃষি খামার। সরকারি সম্পত্তি এভাবে ব্যবহার করা যায় না। এব্যাপারে স্কুল পরিদর্শক ও ডিআই প্রাথমিককে বিষয়টি নিয়ে দেখা উচিৎ। পাশাপাশি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি।’

- Advertisement -

তৃণমূলের শিক্ষা সেলের(প্রাথমিক) জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ চৌহান বলেন, ‘উত্তর দিনাজপুর জেলায় একাধিক স্কুলে এধরণের ঘটনা শোনা গিয়েছে। এভাবে বিদ্যালয়ে রকমারি ফসল রাখা বা শুকানো ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলব।’ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) দীপক কুমার ভক্ত বক্তব্য বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সমস্ত সারকেলের এসআইদের পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা জানান, গ্রামের গরীব মানুষরা তাদের ফসল স্কুলে শুকিয়ে যদি বিক্রি করে তাতে কিছুটা হলেও করোনার সংকট থেকে অর্থের অভাব মেটাতে পারবে। স্কুল বন্ধ সে কারণে তাঁরা ধান ভুট্টো শুকোচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না করলেই হল। এতে অন্যায়ের কিছু নেই।’