আলিপুরদুয়ার, ৮ মার্চ ঃ আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন এলাকায় জমি না মেলায় যখন প্যারেড গ্রাউন্ডে স্টেডিয়াম তৈরির তোড়জোড় চলছে, সেইসময় শহর লাগোয়া একের পর এক সরকারি জমি জবরদখল হযে য়াচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, সদিচ্ছা থাকলেই আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন এলাকায় স্টেডিয়ামের জন্য জায়গা খুঁজে বের করা সম্ভব। অনেক সরকারি জমি ইতিমধ্যেই জমি মাফিয়াদের দখলে চলে গিয়েছে। এখনও কিছু এলাকায় যে জমি রয়েছে তা জবরদখলমুক্ত করে সেখানে স্টেডিয়াম গড়ে উঠতে পারে। এমনকি আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন মাঝেরডাবরি চা বাগানে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন যে ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে সেখানেও প্রয়োজনে স্টেডিয়াম গড়ে তোলা যায়। যদিও জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, শহর লাগোয়া এলাকায় স্টেডিয়াম তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জমি মিলছে না। তবে সরকারি জমি যা জবরদখল হযে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তা শীঘ্র খতিযে দেখা হবে।

আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া বীরপাড়া আইটিআই সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩৫ বিঘা সরকারি জমি পড়ে রয়েছে। ওই এলাকায় বিরাট জায়গা নিযে আইটিআই ক্যাম্পাস এবং সংলগ্ন একটি দৃষ্টিহীনদের বিদ্যালয় গড়ে ওঠার পরেও অনেক ফাঁকা জমি রয়েছে। সেই সমস্ত জমিতে বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিকাজ করেন। অনেক জমি ইতিমধ্যে জবরদখল হযে গিয়েছে। এই সমস্ত জমিতে অবৈধ নির্মাণও গড়ে উঠেছে। মোটা টাকায় দিনের পর দিন এই সমস্ত জমি হাতবদল হযে যাচ্ছে। সরকারি খাসজমিতে জেলা প্রশাসনের কোনো নোটিশ বোর্ড বা সীমানা চিহ্নিত করা না থাকায় সেখানে জমি লুঠ চলছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা বলছেন, বীরপাড়া আইটিআই কলেজ সংলগ্ন বিশাল সরকারি খাসজমিতে স্টেডিয়াম গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকারের উদাসীনতার জন্যই আজকে এই এলাকার বিরাট পরিমাণ জমি জবরদখল হয়ে গিয়েছে। একইভাবে আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া পররপার গ্রাম পঞ্চায়েতের আড়াই মাইল কৃষক বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিরাট পরিমাণ সরকারি খাসজমি জবরদখল হয়ে গিয়েছে। জমি মাফিয়াদের একটি অংশ এই সমস্ত খাসজমি নিজেদের নামে করে নিয়ে তা মোটা টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রবীণ আরএসপি নেতা তথা আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল দাস বলেন, বীরপাড়া আইটিআই এলাকায় যে পরিমাণ সরকারি জমি ছিল তাতে অনায়াসেই একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা যায়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে স্টেডিয়াম গড়তে বিশাল জায়গার প্রয়োজন নেই। তবে কোনোভাবেই প্যারেড গ্রাউন্ডে স্টেডিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না।

এদিকে রিজাম্পশন অফ ল্যান্ড পদ্ধতিতে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন পুর এলাকার ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট তৈরি করতে শহর সংলগ্ন মাঝেরডাবরি চা বাগানে প্রায় ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এজন্য চা বাগান কর্তপক্ষকে প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা দিতে হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির জেরে এখনও ওই জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওযে্ট ম্যানেজমেন্ট গড়ে তোলা যায়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘবছর ধরে মাঝেরডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ একটি বিরাট পরিমাণ খাসজমি দখল করে নিয়েছে। সেই জমিতে চা চাষও চলছে। বছর দুযে আগে জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর চা বাগানের দখলে থাকা জমির উপর মোটা টাকা জরিমানা ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইসময় চা বাগান কর্তপক্ষ জেলা প্রশাসনকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য বিরাট জায়গা দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পরিবর্তে স্টেডিয়াম গড়ে উঠতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এই প্রসঙ্গে মাঝেরডাবরি চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, আমাদের দখলে থাকা জমির লিজ রেন্ট দেওয়ার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য প্রায় ৩৩ বিঘা জমি জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্টেডিয়াম সম্ভব কিনা তা জেলা প্রশাসনই বলতে পারবে। জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নির্দেশে শহর সংলগ্ন এলাকায় স্টেডিয়ামের জন্য জমি খোঁজা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত জমি পাওয়া যায়নি। বীরপাড়া এলাকায় সরকারি খাসজমি জবরদখল হযে যাচ্ছে কিনা তা শীঘ্র খতিযে দেখা হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জয় ঘোষ বলেন, আগামী রবিবার প্যারেড গ্রাউন্ডে স্টেডিয়াম তৈরির সমর্থনে জেলার সমস্ত প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড়রা একটি বৈঠক করবেন। প্যারেড গ্রাউন্ডেই স্টেডিয়াম হবে।