মমতারূপী দুর্গার সামনেই অশ্লীল নাচ, বিতর্কে তৃণমূল

129

হরিশ্চন্দ্রপুর: গণেশ চতুর্থীতে দুর্গারূপী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করে তাঁর কোলে গণেশকে বসিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিল হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রভাবিত একটি ক্লাব। এবার সেই ক্লাবের পুজোতেই মমতারূপী দুর্গার মূর্তির সামনেই চলল চটুল নাচের অনুষ্ঠান। স্বল্পবসনা নর্তকীর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে নাচলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। গোটা ঘটনা ভাইরাল হতেই জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর টাউন লাইব্রেরি ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ক্লাবে এবছর প্রথম গণেশ পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজোর থিম হিসেবে দুর্গারূপী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করে নজর কাড়ন তাঁরা। তা নিয়ে কটাক্ষ করেন বিরোধীরা। যদিও আমল দেননি তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু রবিবার রাতে ওই ক্লাবের মাঠে একটি জলসার আয়োজন করা হয়। সেখানে করোনাবিধির তোয়াক্কা না করেই হিন্দি গানের সঙ্গে চটুল নাচের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি খালি গায়ে সিগারেট হাতে গানের তালে নাচতে দেখা যায় এক তৃণমূল যুবনেতাকে। দর্শকাসনে তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ঘটনার পর অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে ওই ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে তৃণমূলের একাংশের দাবি, যাঁদের ওই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে, তাঁরা আগে বিজেপি কর্মী ছিলেন।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রুপেশ আগরওয়াল জানান, তৃণমূল দলটাই হল অপসংস্কৃতির দল। তাই বিজেপি ত্যাগীরা ওই দলে গিয়ে প্রশ্রয় পাচ্ছেন। এমন কাণ্ডের নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র আবদুস সোবান। তিনি জানান, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্গা সাজিয়ে তাঁর সামনে এ ধরনের চটুল গানের সঙ্গে অশ্লীল নাচ অপসংস্কৃতির পরিচয়।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফেরদৌস জানান, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস। যা বাংলা ও বাঙালির কাছে লজ্জার। তৃণমূল যুবর হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমান জানান, এই ঘটনা দল সমর্থন করে না। তাঁরা দলীয়স্তরে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক সভাপতি মানিক দাস জানান, দলকে বদনাম করার জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে। দল এই ধরনের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয় না। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।