সরস্বতী পুজোয় রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চটুল নাচ’ ঘিরে বিতর্ক

369

রায়গঞ্জ: করোনার জেরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের আসা পুরোপুরিভাবে নিষেধ। গতবছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে পঠনপাঠন। স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরে পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি চলছে অনলাইনে। অথচ সরস্বতী পুজোর রাতে ভিন্ন ছবি দেখা গেল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বক্স বাজিয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মাতল পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে চলল উদ্দাম নাচ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও পড়ুয়াদের প্রবেশ ছিল অবাধ।

দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেভাবে আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব হয়নি পড়ুয়াদের। সরস্বতী পুজোয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করা যাবে না, এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে দুপুর থেকেই পড়ুয়ারা ভিড় করতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সন্ধ্যা হতেই ভিড় উপচে পড়ে পুজো মণ্ডপে। এতদিন পর এভাবে একসঙ্গে দেখা হবে, তা তারা ভাবতে পারেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুজো মণ্ডপে গানের তালে তালে আনন্দে মেতে ওঠে তারা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই নয়, প্রতিমা দর্শন করতে বাইরে থেকে আসা যুবক-যুবতীরাও গানের তালে মেতে ওঠেন। শিকেয় ওঠে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি।

- Advertisement -

যদিও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি এজন্য পুরোপুরিভাবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে দায়ী করেছে। সংগঠনের সদস্যদের দাবি, ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চাটুল নাচে মেতেছিলেন। আমাদের কোনও সদস্যই ছিল না।’

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি অনুপ করের দাবি, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুমোদিত কোনও সংগঠন নেই। সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা মিলিত হয়ে পুজো করেছে। এবিভিপি, এসএফআই, ছাত্র পরিষদ সহ সমস্ত সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা পুজোর আনন্দে মেতেছিল। যদি চটুল নাচ হয়ে থাকে তাহলে এবিভিপি, এসএসআই, ছাত্র পরিষদের সদস্যরা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান তো তৃণমূল ছাত্র পরিষদ করেনি। তাই দায়ভার আমাদের নেই। বদনাম করতেই এইসব অভিযোগ করা হচ্ছে।’

এবিভিপির জেলা সভাপতি শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘পুজোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে চটুল নাচ করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। আমাদের একজন সদস্যকে তারা চিহ্নিত করে দেখাক রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমরা এ বিষয়ে উপাচার্যকে লিখিত অভিযোগ জানাব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন সংস্কৃতি আমরা পছন্দ করি না। সমর্থনও করি না।’

অন্যদিকে, এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক গোপাল দাস বলেন, ‘কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে পঠনপাঠন বন্ধ রেখে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে সরকার। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে চটুল নাচের অনুমতি দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আমাদের দোষারোপ দিয়ে নিজেদের স্বচ্ছতা দেখিয়ে লাভ নেই শাসক তৃণমূলের। কারণ সবাই জানে, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন বকলমে চালাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুজো হওয়ায় একটু ভিড় হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নাচানাচি হচ্ছে খবর পেয়ে ছাত্রদের শালীনতা বজায় রেখে আনন্দ করতে বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের ছাত্রছাত্রীরা শামিল হয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা সাধ্যমত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেছে।’