মাস্ক পরেই ছাদনাতলায় পাত্রপাত্রী

দেবাশিষ দত্ত, পারডুবি: মাস তিনেক আগে পাত্রপাত্রীর দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিকভাবে বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল। ঠিক ছিল বৈশাখের চার তারিখ বিয়ে হবে। কিন্তু করোনা রুখতে লকডাউনের জেরে নির্দিষ্ট তারিখে বিয়ে হয়নি। পাত্রপাত্রী আশায় ছিলেন, দিন কয়েক বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কি! লকডাউন তো বেড়েই চলেছে। তাই আর অপেক্ষা না করে কোনওরকম অনুষ্ঠান ছাড়াই বর ও কনের চার হাত করে দিলেন তাঁদের পরিবারের লোকজন।

তবে জাঁককজমপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, শুক্রবার রাতে শুধু মন্ত্রোচ্চারণ করে সাতপাঁক ঘুরে বিয়ে করলেন মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবির সুস্মিতা বর্মন ও কোচবিহারের কালিগঞ্জ বাজার এলাকার প্রবীর বর্মন। পারডুবি বাজার লাগোয়া এলাকায় মেয়ের বাড়িতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিয়ে হয়েছে। দুই পরিবারের যেকয়েকজন উপস্থিতি ছিলেন তাঁরা প্রত্যকেই মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন। পাত্রপাত্রীও মাস্ক পরেই মন্ত্রোচ্চারণ, মালাবদল ও শুভদৃষ্টি সারেন। বিয়েতে স্বাস্থ্যিবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হলেও, সকল আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ছাড়াই জৌলুসহীনভাবে বিয়ে সারতে হয়েছে বলে আক্ষেপ রয়েছে বরকনের।

- Advertisement -

পাত্র প্রবীর বর্মন বলেন, দুই বাড়ির সম্মতিতেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছিল। ভেবেছিলাম ধুমধাম করে বিয়ে হবে। সেই আয়োজনও সেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের জেরে সবই বাতিল করতে হয়েছে। করোনার জন্য এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা কেউ জানে না। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান আর পিছিয়ে রাখতে চাইনি। তাই অনাড়ম্বরভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। পাত্রীর বাবা হরকুমার বর্মন জানান, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানিয়ে এদিন জমায়েত এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনাড়ম্বরভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি।

এবিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রানা সরকার বলেন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক বর্মন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও জমায়েত এড়িয়ে কোনওরকম অনুষ্ঠান ছাড়াই সম্প্রতি কয়েকটি বিয়ে হয়েছে পারডুবির বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই যাতে বিয়ে হয় সেদিকে গ্রামপঞ্চায়েতের কর্মীরা নজর রাখছেন।