দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : সোমবার বিশ্ব জলাভূমি দিবস। কিন্তু এই দিনেও বেহাল দশায় পড়ে আছে কোচবিহার শহরের বেশ কিছু জলাভূমি। জলাভূমি সংস্কার এবং সংরক্ষণে হুঁশ নেই কারও। কোথাও দিঘি অথবা নদীতে পড়ে রয়েছে বস্তাভর্তি আবর্জনা, প্লাস্টিকের বোতল। আবার কোথাও বাড়ির আবর্জনা, প্রতিমার কাঠামো এবং থার্মোকলের বাক্স- সবই পড়ে রয়েছে জলাভূমিতে। শুধু তাই নয়, শহরের বেশিরভাগ দিঘিতে কচুরিপানা ভরে রয়েছে। পুরসভার তরফে অনেকবার বলা হয়েছে, শীঘ্র বিভিন্ন জলাভূমির কচুরিপানা তুলে সংস্কার করা হবে। কিন্তু অনেক দিঘি বা জলাভূমির ক্ষেত্রে এখনও তা করা হয়নি। এর ফলে আদৌ তা হবে কিনা- সে বিষয়ে যথেষ্ট চিন্তিত পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

কোচবিহার শহর ও সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে মরাতোর্ষা নদী। এছাড়া, শহরের কাইয়াদিঘি, ডাঙ্গরআইদিঘি, ধোপাদিঘি, গোলাপদিঘি, লালদিঘি সহ বেশিরভাগ দিঘিই আবর্জনা এবং কচুরিপানায় ঠাসা। তার উপর অসচেতন বাসিন্দারা সেখানে আবর্জনা ফেলায় এই সমস্ত জলাভমি দূষিত হয়ে পড়ছে। শহরের বেশিরভাগ দিঘিই হেরিটেজের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক দিঘির পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শহরবাসী। কিছু অসচেতন মানুষ নদী বা দিঘিতে গবাদিপশু স্নান করানো, গৃহস্থালির অব্যবহৃত জিনিস, প্লাস্টিক, থার্মোকল ফেলায় দিঘিগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মরাতোর্ষা নদী এবং শহরের বেশ কিছু দিঘি অলিখিত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে।

- Advertisement -

পরিবেশপ্রেমী সংগঠন মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবের সম্পাদক দিলীপচন্দ্র চৌধুরি বলেন, প্লাস্টিক বা থার্মোকল পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। নদীতে বা দিঘিতে আবর্জনা ফেলা কখনোই উচিত নয়। এতে জীববৈচিত্র‌্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই য়ায়। এই বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলা উচিত। কোচবিহার সদর গভর্নমেন্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মলয়কান্তি রায় বলেন, এর ফলে নদী ও দিঘিগুলি বুজে যাবে। সংলগ্ন এলাকার উদ্ভিদ বা প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরোক্ষভাবে মানুষের উপরও এর কুপ্রভাব পড়বে। কিছু মানুষের অসচেতনতার জন্য নদী এবং দিঘি দূষিত হচ্ছে। সরকার যতদিন কঠোর না হবে, ততদিন এভাবেই চলতে থাকবে।

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কাবেরী চাকলাদার বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে নদীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য। মরাতোর্ষা নদীতে যেভাবে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, তাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে মৎস্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, শহরের ৩৮টি দিঘি আমাদের অধীনে রয়েছে। ১০০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে ওই দিঘিগুলি সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। শহরের ৩৫টি দিঘিকে এজন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্র সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। সদর মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল জানান, দিঘি পরিষ্কার করা হলেও তাতে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সবারই সচেতন হওয়া দরকার। এই বিষয়ে মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।