কোচবিহার, ১০ এপ্রিলঃ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য সাংসদ নির্বাচন করবেন ভোটাররা। এবারের নির্বাচন সাত দফায় হতে চলেছে। তার মধ্যে প্রথম দফাতেই ভোট রয়েছে কোচবিহারে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেশের ১ নম্বর লোকসভা কেন্দ্র কোচবিহার। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে তৈরি এই লোকসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, মাথাভাঙ্গা, দিনহাটা, সিতাই, শীতলকুচি ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬৬০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৯ লক্ষ ৪১ হাজার ৪৭৯ জন। মহিলা ভোটার রয়েছে ৮ লক্ষ ৭০ হাজার ১৭৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন। কোচবিহার কেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ২০১০টি, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে ১৪৮৭টি। ৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ থাকবে ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে। ইতিমধ্যেই পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কোচবিহারে পৌঁছেছেন। জেলা প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তিনি। মোট ১১ জন প্রার্থী লড়াই করছেন কোচবিহার কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করছেন পরেশচন্দ্র অধিকারী। এছাড়াও বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক, কংগ্রেসের পিয়া রায়চৌধুরী ও বামফ্রন্টের প্রার্থী রয়েছেন গোবিন্দ রায়। চতুর্মুখী লড়াই হলেও পরেশ এবং নিশীথের লড়াই এখানে প্রাধান্য পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ হন রেনুকা সিনহা। পরবর্তীতে তার প্রয়ানের পর ২০১৬ সালে উপনির্বাচনে দলীয় টিকিটে সেই পদ পান পার্থপ্রতিম রায়। এবার তাঁর বদলে দলের টিকিট দেওয়া হয়েছে সদ্য ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃনমূলে যোগ দেওয়া পরেশচন্দ্র অধিকারীকে। এদিকে দীর্ঘদিন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সেই পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। এরপর তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। দলে যোগ দেওয়ার পরই তাকে দলীয় টিকিট দেওয়া হয়। কোচবিহার কেন্দ্রে এবার দলবদল করা এই দুই প্রার্থীই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর কোচবিহার জেলায় আধিপত্য বজায় রেখেছে তৃণমূল। তবে সাম্প্রতিক কালে ঘাঁটি মজবুত করেছে বিজেপিও। তৃণমূল ও বিজেপি দুটি দলই যে পাখির চোখ করে দেখছে এই কেন্দ্রকে তা তাঁদের প্রচার থেকেই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচনী প্রচার করে গিয়েছেন এখানে। এছাড়াও একাধিক হেভিওয়েট নেতৃত্বকে দেখা গিয়েছে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে। রাজনৈতিক প্রচারে হেভিওয়েটদের টক্কর তো রয়েইছে পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি এই কেন্দ্রে। নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগেই বদলি করে দেওয়া হয় কোচবিহারের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে সেজন্য আন্দোলনে নামেন কর্মীরাও। তাই একদিকে যেমন পরেশ-নিশীথের লড়াই অন্যদিকে ভোট কর্মীদের বিক্ষোভ, পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রী- মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার সহ বিভিন্ন কারণে সকলের নজর এখন কোচবিহারের দিকেই।

সংবাদদাতাঃ শিবশঙ্কর সূত্রধর