হ্যাপি সিডার পদ্ধতিতে পাট বীজ বপন, উৎসাহিত কৃষকেরা

78

ফেশ্যাবাড়ি: আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহী করে তুলতে ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি মিশন জুট (এনএফএসজে) ও আত্মা প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে ‘হ্যাপি সিডার’ পদ্ধতিতে শূন্য কর্ষনে রবিবার পাট বপন করল কোচবিহার জেলা কৃষিদপ্তর। রবিবার কোচবিহার-১ ব্লকের মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দোমুখা নয়ারহাট বাজার সংলগ্ন মোয়ামারিতে এক প্রদর্শনীক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করায় ব্যাপক সাড়া পড়ছে কৃষি মহলে। জমিতে কোনওরকম চাষ না করে যান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করে মাত্র কুড়ি মিনিটে এক বিঘা জমির পাট বপন করা হয়েছে।

কৃষি দপ্তরের এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন জেলা উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) পূর্ণবসু দে, জেলা সহকৃষি অধিকর্তা (প্রশিক্ষণ) রজত চট্টোপাধ্যায়, কোচবিহার-১ ব্লক টেকনিক্যাল ম্যানেজার (বিটিএম) স্বাগতা সিনহা, সাতমাইল সতিশ ফার্মাসিস ক্লাবের সম্পাদক অমল রায় প্রমুখ। মোয়ামারির চাষি দুলাল সরকারের প্রায় এক হেক্টর জমিতে কৃষি প্রদর্শনীক্ষেত্র গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) পূর্ণবসু দে বলেন, ‘আধুুনিক প্রযুক্তিতে শুন্য কর্ষণে চাষাবাদ বর্তমানে অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পূর্ববর্তী ফসলের অবশিষ্ট অংশ (নাড়া) জমিতে রেখে কোনরকম জমি চাষ না করে ‘হ্যাপি সিডার’ পদ্ধতিতে প্রদর্শনীক্ষেত্রে শূন্যকর্ষনে কৃষি দপ্তরের তরফে পাট বপন করা হয়েছে। সাধারণত প্রথাগত হাতে ছিটানোর চেয়ে শূন্য কর্ষনে চাষের খরচ ও সময় উভয়েই সাশ্রয়। ফলে চাষের খরচ বিঘা প্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকার মত কম হয়। একসঙ্গে একাধিক শ্রমিক একত্রিত হবার প্রয়োজন হয় না।’

- Advertisement -

পূর্ণবসু দে’র কথায়, পাটের ফলন নূন্যতম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেচের জল প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দরকার পড়ে। ফসল পরিণতির সময় ৭ থেকে ১০ দিন কম লাগে। পূর্ববর্তী ফসলের নাড়া জমিতে থাকায় জমির আদ্রতা বজায় থাকে। আগাছার বাড়বাড়ন্ত রোধ করা সম্ভব। কোন কোন জায়গায় চাষিরা অসাবধনতাবশত গম কাটার পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে জমিতে উপযুক্ত জৈব সার সৃষ্টি করে। পাশাপাশি মাটির গুনগতমান বজায় থাকবে। এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তার পাশাপাশি চাষিদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছে। কৃষকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।