সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি, ১৯ মার্চঃ গত কয়েক বছরে ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকার জনসংখ্যা বেড়ে ৫৫ হাজার পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এলাকায় কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে না ওঠায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি রোজই বাড়ছে। সমস্যা এতটাই বেড়েছে যে এলাকায় কোনো গবাদিপশুর মৃত্যু হলে তার মৃতদেহ ফেলা নিয়ে বাসিন্দাদের রীতিমতো মাথার চুল ছেঁড়ার যো হয়।

সমস্যা মেটাতে ধূপগুড়ি পুরসভা অস্থাযী ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা করেছে। সাফাইকর্মীরা প্রতিদিন কাকভোরে বাজার সাফাই করে নির্মল বাংলা মিশন থাকা কম্প্যাক্টরে আবর্জনা ভরে দেন। এরপর সেই আবর্জনা নিয়ে গিয়ে ৭০ কিলোমিটার দূরে কোচবিহার পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে গিয়ে ফেলা হয়। এজন্য ধূপগুড়ি পুরসভার কোষাগার থেকে আবর্জনা ফেলার ফি বাবদ ট্রাক প্রতি চার হাজার টাকা খরচের পাশাপাশি গাড়ি করে সেই আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার খরচও বহন করতে হয়। ফলে সব মিলিয়ে এক কম্প্যাক্টর আবর্জনা ফেলতে পুরসভার কোষাগার থেকে ৬ হাজার বা তারও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।

ধূপগুড়ির ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, শহরকে জঞ্জালমুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট চালুর বিষয়ে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত শহরের আবর্জনা সাফাইয়ে পুরসভা যে কোনো মূল্য দিতে রাজি বলে জানিয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্য, আমাদের সমস্যা মেটাতে কোচবিহার পুরসভা যেভাবে এগিয়ে এসেছে তাতে আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

২০০৭ সালে দ্বিতীয় পুরবোর্ডের আমলে শহরের জঞ্জাল সমস্যার সমাধানে ধূপগুড়ি পুরসভা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে সাত একর জায়গা কেনে। ১৬ বিঘা পুকুর সহ এই জায়গাটি ঘিরে সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড চালুর পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু বাসিন্দাদের বাধায় সেখানে আবর্জনা ফেলার কাজ ধাক্কা খায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আবর্জনা সমস্যা নিয়ে পুরসভা থেকে শুরু করে জেলাপরিষদ, বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছে।

ধূপগুড়ি শহরের অন্যতম বড়ো প্রশাসনিক অসুবিধা হল শহরের মূল অংশে বাজার এবং বাণিজ্যিক এলাকাগুলি জেলাপরিষদের আওতাধীন। ফলে সেখান থেকে ট্রেড লাইসেন্স ফি সংগ্রহ করলেও জমির মালিকানা জেলাপরিষদের হাতে থাকায় বাজারের আবর্জনা ফেলা নিয়ে বারেবারে দুই প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টানাপোড়েন বেধেছে। জেলাপরিষদ এবং পুরসভা দুই সংস্থার হাতেই সাফাইকর্মী থাকলেও জঞ্জাল ফেলার জায়গাই মূল সমস্যা হয়ে রয়েছে।

ফলে গত বছরগুলিতে কখনও কুমলাই নদীর পাড়ে, আবার কখনও ডাকবাংলো চত্বরে আবর্জনা ফেলা হয়েছে, আবার নাগরিকদের আন্দোলনে তা বন্ধও হয়েছে। এদিকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় গবাদিপশুর মৃতদেহ কোথাও ফেলা যাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে অনেকে রাস্তার পাশে গবাদিপশুর মৃতদেহ ফেলে যাচ্ছেন। পরে তা থেকে পচা গন্ধ বের হলে বা কুকুরে টানাহ্যাঁচড়া শুরু করলেও মূলত ফেলার জায়গার অভাবে পুরসভার সাফাইকর্মীরাও এর দায়িত্ব নিতে ইতস্তত করছেন।

পুরসভার বিরোধী দলনেতা কৃষ্ণদেব রায় বলেন, বাড়ির ট্যাক্স নেওয়া হলেও পাড়ায় পাড়ায় আবর্জনার স্তূপ জমছে। নিজেদের পকেটের পযসায় আবর্জনা সাফাইয়ে বাসিন্দারা বাধ্য হচ্ছেন। ধূপগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার মমতা রায় বলেন, আমরা পুরোবোর্ডে থাকাকালীন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জমি কিনেছিলাম। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস নিছক রাজনৈতিক ফায়দা নিতে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তা চালু হতে দেয়নি। আজকে তারা নিজেরাই নিজেদের জালে ফেঁসে গিয়েছে।