দশ বছর বাদে পঞ্চঘন্টা ছাড়াই সন্ধ্যা আরতি মদনমোহনবাড়িতে

175

কোচবিহার: প্রায় দশ বছর পর ফের পঞ্চঘন্টা ছাড়া সন্ধ্যা আরতি অনুষ্ঠিত হল কোচবিহার মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে। আগামী কয়েকদিনও পঞ্চঘন্টা ছাড়াই মন্দিরে সন্ধ্যারতি হবে বলে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড সুত্রে জানা গিয়েছে। ট্রাস্ট সুত্রে খবর, মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির মন্দিরের বারান্দায় থাকা পঞ্চঘন্টাটির একটিতে ফাটল ধরেছে। এছাড়া যে শিকলে করে পঞ্চঘন্টাটিকে ঝুলিয়ে রাখা হত, সেই শিকলটিও জীর্ণ হয়ে পড়েছে। পঞ্চঘন্টা ও শিকলটিকে মেরামত করার জন্য মন্দিরের বাইরে একটি দোকানে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে আগামী কয়েকদিন মন্দিরে সন্ধ্যার সময় মদনমোহন ঠাকুর,  মা আনন্দময়ী,  জয় তারার পুজোর সময় পঞ্চঘন্টা ছাড়াই সন্ধ্যা আরতি হবে।।

কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে ১৮৯০ সালে শহরের বৈরাগী দিঘির ধারে তৈরি হয় কোচবিহারবাসীর প্রাণের ঠাকুর মদনমোহনের মন্দির।বর্তমানে মন্দিরটি জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বহু ভক্ত ও পর্যটক মন্দিরটিতে পুজো দিতে ও বেড়াতে আসেন। পুজো শুরুর প্রথম থেকেই পঞ্চঘন্টাটি রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় মদনমোহন মন্দিরে যখন আরতি হয়। তখন পিতলের তৈরি এই পঞ্চঘন্টাটিকে বাজান হয়। সন্ধ্যার সময় মন্দিরে আরতি দেখতে আসা ভক্তদের কাছেও পঞ্চঘন্টার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ভক্ত ও পর্যটকরাও পঞ্চঘন্টাটি দর্শন করেন। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের বড়বাবু জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, পঞ্চঘন্টাটির শিকল ছিঁড়ে যাওয়ায় ও একটি ঘন্টাতে ফাটল ধরায় তা সারাই করার জন্য এদিন তাঁরা তা বাইরে পাঠিয়েছেন। মন্দিরের রাজ পুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান, রাজ আমলে মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই পঞ্চঘন্টাটি এই মন্দিরে রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যারতির সময় ঘন্টাটি বাজান হত। আগামী কয়েক দিন মন্দিরে পঞ্চঘন্টা ছাড়াই আরতি হবে। বছর দশেক আগে ঘন্টা ও শিকলটিকে একবার সারাই করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।।

- Advertisement -