কোচবিহার শহরে কত  ফ্ল্যাট, জানা নেই পুরসভার 

331

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : রাজার শহর হিসাবে পরিচিত কোচবিহারের হেরিটেজ শহরেরও তকমা রয়েছে। এমন একটি শহরের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ কোচবিহার শহরে কতগুলি ফ্ল্যাট বা বহুতল রয়েছে, সেগুলিতে কতগুলি পরিবারের বসবাস এমন মামুলি তথ্যও কোচবিহার পুরসভার কাছে নেই। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ভূষণ সিং তা স্বীকারও করেছেন। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে। শহরের ফ্ল্যাটগুলিতে কত সংখ্যক মানুষ রয়েছেন, তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুরসভার কাছে না থাকায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, কেন পুরসভার কাছে এ সংক্রান্ত যাবতীয় হিসাব থাকবে না সেই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।

কোচবিহার পুরসভার বিরোধী দলনেতা সিপিএমের মহানন্দ সাহা বলেন, শহরে বহুতল তৈরির অনুমোদন পুরসভা থেকেই দেওয়া হয়। এজন্য পুরসভা করও নেয়। কিন্তু কোচবিহার শহরে কতগুলি বহুতল আবাসন রয়েছে, সেগুলিতে কতগুলি পরিবারের বসবাস তা পুরসভার জানা নেই জেনে খুবই অবাক লাগছে। বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টির সঙ্গে শহরের নিরাপত্তা জড়িত থাকায় পুরসভার এদিকে শীঘ্রই নজর দেওয়া উচিত। ভূষণ সিং বলেন, শীঘ্রই শহরের প্রোমোটারদের সঙ্গে বৈঠক করব। তাঁদের তৈরি ফ্ল্যাটে কতজন করে বাসিন্দা রয়েছেন তা জানা হবে। এজন্য নামজারির কথা বলা হবে। নইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

গত কয়েক বছরে কোচবিহারে শহরে বহু আবাসন গড়ে উঠেছে। মূলত শহরের ৫, ৮, ১৩, ১৬, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই আবাসন বা ফ্ল্যাটবাড়িগুলি রয়েছে। এই আবাসনগুলিতে বহু পরিবার বসবাস করে। এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার বাসিন্দারা রয়েছেন। শহরের বাসিন্দারা তো রয়েছেন, শহরের বাইরে থেকে আসা বাসিন্দারাও এই ফ্ল্যাটগুলিতে বসবাস করেন। এই আবাসনগুলি তৈরির জন্য পুরসভা থেকেই প্ল্যান পাশ করানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শহরে কতগুলি ফ্ল্যাট রয়েছে, সেগুলিতে কত সংখ্যক বাসিন্দা রয়েছেন সেই তথ্য পুরসভার কাছে নেই। সূত্রের খবর, ফ্ল্যাটগুলিতে থাকা সিংহভাগ বাসিন্দার মিউটেশন করা হয়নি। এসব তথ্য পুরসভার জানা না থাকায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে যাতে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই দাবি জোরালো হয়েছে।