প্রাণপ্রতিম পাল, কোচবিহার : সাগরদিঘির উপর পর্যটকদের চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে এবার কোচবিহার শহরের যমুনাদিঘিকে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। কোচবিহার পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিলে যমুনাদিঘির সংস্কার করার পাশাপাশি দিঘিটির সৌন্দর্য্যায়ন করা হবে। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, আমরা মনে করি, কোচবিহারে সাগরদিঘির বিকল্প হতে পারে যমুনাদিঘি। ওই দিঘিটি সংস্কার ও সৌন্দর্য্যায়নের জন্য পুরসভার তরফে রাজ্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কোচবিহার শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে যমুনাদিঘি। শহরবাসীর কাছে এই দিঘিটি অবশ্য লম্বাদিঘি নামেও পরিচিত। বীরেন কুণ্ডু কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন একবার এই দিঘির সংস্কার করা হয়েছিল। সেসময় কোচবিহার দক্ষিণ-এর বিধায়ক ছিলেন অক্ষয ঠাকুর। তাঁর এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে যমুনাদিঘির ধারে সৌরবাতি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওই সৌরবাতি খারাপ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরবাতির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে দিঘিটি এখন বেহাল দশায রয়েছে। অনেকদিন ধরেই এই দিঘিটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এবার পুরসভা দিঘিটি সংস্কারের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ায তাঁরা খুশি। স্থানীয বাসিন্দারা মনে করছেন, পুর কর্তপক্ষ দিঘিটি সংস্কার করলে ও তার চারপাশে সৌন্দর্য্যায়নের ব্যবস্থা করলে সকাল ও সন্ধ্যায় দিঘির পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়া যাবে। সাগরদিঘির মতো অনেকে এখানে হাঁটতেও আসবেন। পাশাপাশি, এই দিঘিটিও সাগরদিঘির মতো পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারবে বলে কোচবিহারের অনেকেই মনে করছেন।

কোচবিহারের বাসিন্দা সুশান্ত রায় বলেন, পুরসভার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। যমুনাদিঘি সংস্কার করে সাজিয়ে তোলা হলে তা পর্যটক ও স্থানীয়দের আকর্ষণ করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যমুনাদিঘি এলাকার এক কলেজ ছাত্রী বলেন, এই দিঘির কাছে রাতে পুলিশি টহল খুব একটা হয় না। পাড়ে লাগানো অনেক সৌরবাতিই খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে সমাজবিরোধীরা। দিঘির পূর্ব পাড়ে সন্ধ্যার পর অসামাজিক কাজকর্ম চলতে থাকে। এই দিঘিটি সংস্কার করে সাজিয়ে তোলা হলে প্রচুর মানুষ সকাল ও সন্ধ্যায় দিঘির পাড়ে বেড়াতে আসবেন। তাহলে এই এলাকায় অসামাজিক কাজকর্মও বন্ধ হবে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নারায়ণচন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কোচবিহার পুরসভার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যমুনাদিঘি এলাকায সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের ঢল বাড়বে। আর তা হলে সাগরদিঘির উপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে যাবে। এলাকার উন্নয়নও হবে।