কোচবিহারের পর্যটনকে তুলে ধরতে টুরিজম প্ল্যান

397

কোচবিহার : সীমান্ত, ছিটমহল, জঙ্গল থেকে সনাতনী সংস্কৃতি, কোচবিহারের ঐতিহ্যশালী ভাঁড়ারে এমন অনেক কিছুই রয়েছে। এসবকে কেন্দ্র করে জেলার পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরা যায। এই লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসন ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যান তৈরি করেছে। এজন্য জেলাজুড়ে পর্যটনের ১৪টি ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য আলাদা ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা সফল করতে প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। এজন্য নির্দিষ্ট ওযেসাইটে সমস্ত তথ্য দেওযার পাশাপাশি গোটা বিষয়টি সবার সামনে ভালোভাবে তুলে ধরতে ফেসবুক পেজও খোলা হয়েছে। জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ‘কোচবিহারে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভারের পাশাপাশি সম্ভাবনা রয়েছে। একে কাজে লাগিযে জেলার প্রচুর উন্নন করা যেতে পারে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আরও বেশি করে কোচবিহারে টানতেই বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। পর্যটন সার্কিট সংক্রান্ত এই পরিকল্পনা সফল হলে বহু কর্মসংস্থানও হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যানের জন্য কোচবিহারের ১৪টি বিশেষ ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এগুলির মধ্যে ইকো টুরিজম, ওয়াইল্ড লাইফ, হেরিটেজ টুরিজম, ধর্মীয, সংস্কৃতি, সীমান্ত, ছিটমহল, অ্যাডভেঞ্চার, হোমস্টে সংক্রান্ত টুরিজম রয়েছে। এ সমস্তকে একসূত্রে গেঁথে জেলা প্রশাসন কোচবিহারের পর্যটনের সার্কিটকে বিস্তৃত করতে উদ্যোগী হয়েছে। এজন্য একটি পর্যটন সার্কিট তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে এখানে এসে তিনদিনে সমস্ত ঘুরে দেখতে পারেন সেই অনুযাযী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য একটি ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটন দপ্তর থেকে এই পরিকল্পনার অনুমোদন নিযে এসে কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, বন দপ্তরের মতো কয়েকটি দপ্তরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রকল্পের কাজ করা হবে। কোচবিহার রাজবাড়ি ও সংলগ্ন পার্ক নিযে প্রশাসন পর্যটন সংক্রান্ত বিশেষ পরিকল্পনা করতে চাইছে।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলা বরাবরই পর্যটকদের কাছে প্রিয়। কিন্তু জেলার পর্যটন ব্যবস্থার উন্নযন সেভাবে হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোচবিহারে পর্যটনের যা সম্ভাবনা রয়েছে তা ঠিকমতো কাজে লাগালে প্রচুর উন্নযন হত বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এজন্য বহুদিন ধরেই এই মহল দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তা সেভাবে কাজে লাগানো হযনি বলে অভিযোগ। এবারে তা কাজে লাগাতে প্রশাসন উদ্যোগী হওয়ায় খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। বিভিন্ন মহল জেলা প্রশাসনের প্রশংসায় মেতেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিযে দিচ্ছেন।

তথ্য- চাঁদকুমার বড়াল