গ্যাস বিস্ফোরণে রাজস্থানে মৃত্যু কোচবিহারের শ্রমিকের

439

ফেশ্যাবাড়ি: ভিন রাজ্যে গ্যাস দুর্ঘটনায় মারা গেলেন কোচবিহার জেলার মোয়ামারির শ্রমিক। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃতের নাম এজাজুল হক (৩০)। কোচবিহার – ১ ব্লকের মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দিগলহাটি ময়নাগুড়ি গ্রামে তাঁর বাড়ি। বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুসংবাদ আসায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামে। পরিবারের উপার্জনকারী এভাবে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা প্রশাসনিক সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় নমাস আগে স্থানীয় যুবকরা কাজের সন্ধানে রাজস্থানের বিকানেরে যান। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও বেসরকারি কোম্পানিতে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছিলেন এজাজুলও। বিকেল নাগাদ হঠাৎই বিকট আওয়াজে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। গুরুতর জখম হন তিনি। পরে অন্যান্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজস্থান থেকে গ্রামের বাড়িতে অন্য শ্রমিকরা টেলিফোনে তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানান। এরপরই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

- Advertisement -

এদিন মৃতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। কবে মরদেহ এসে গ্রামে পৌঁছোবে সেই আগ্রহে এলাকাবাসী। মৃতের বাবা সপরউদ্দিন মিয়াঁ বলেন, ভিন রাজ্য থেকে টেলিফোনে ছেলের মৃত্যুসংবাদ আসায় আমরা মর্মাহত। গরিব মানুষ কীভাবে কি করব বুঝতে পারছিনা। শুনছি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। কখন এসে পৌঁছোয় সেই অপেক্ষায় রয়েছি। পরিবারের উপার্জনকারী ছেলের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। প্রশাসনিক সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয়রাও সরকারি সাহায্যের দাবি তুলেছেন।

পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নুরি ইয়াসমিন। তিনি বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের পাশে রয়েছি। কীভাবে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যায় তা দেখছি। এব্যাপারে কোচবিহার-১’এর বিডিও নৃপেন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্য মারা গেলে ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি বেনিফিশিয়ারি স্কিম’ এ আবেদন করলে এককালীন চল্লিশ হাজার টাকা পাবেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।