জাতীয় সড়কে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে

333

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: কোথাও রাস্তার একপাশ ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, কোথাও বা গাছের গুঁড়ি ফেলে আড়াল করা হয়েছে রাস্তার একাংশ। ইট আর গাছের গুঁড়ির ঘেরাটোপে এভাবে রাস্তা ‘দখল’ করে চলছে ভুট্টা শুকোনোর কাজ। আর তারই জেরে দিনভর চলছে যানজট। পথ দুর্ঘটনায় তপনের বিডিওর মৃত্যুর পরও টনক নড়েনি কারও। জেলার জাতীয় সড়কের উপর এখনও অবাধে চলছে ধান ও ভুট্টা শুকোনো, মাড়াই, খড় নাড়া দেওয়ার কাজ।

এদিকে লকডাউন শিথিল হতেই জেলাজুড়ে যানচলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। সেইসঙ্গে ৩১ ও ৩৪ নং জাতীয় সড়কেও পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল বেড়েছে। রাস্তা দখল করে ধান ও খড় বিছিয়ে রাখার ফলে যে কোনও সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাস্তায় ধান শুকোতে দেওয়ার ফলে তার মধ্যে গাড়ির চাকা পিছলে মাস খানেক আগে তপনের বিডিও ছোগেল মোক্তান তামাংয়ের মৃত্যু হয়েছিল। এরপরই এই ঘটনায় কয়েকদিন বিভিন্ন জেলায় পুলিশি টহলদারি শুরু হয়। সেইসময় কড়াকড়ির ফলে রাজ্য ও জাতীয় সড়কে ধান ও ভুট্টা শুকানোর অভ্যাস একটু কমেও যায়। কিন্তু নজরদারি শিথিল হতেই ফের জাতীয় সড়ক প্রায় দখল করে চলছে ভুট্টা, ধান শুকানো, মাড়াই ও খড় নাড়ার কাজ।

- Advertisement -

কৃষকদের দাবি, একাধিক জমিতে এখনও জল জমে রয়েছে। জমি থেকে জল বের না হওয়ায় পুরো মাঠ জলে ডুবে রয়েছে। ধান কাটার পরে যাবতীয় কাজ জমিতেই করা হয়। জমি জলে ডুবে থাকার কারণে সেসব কিছুই করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে জাতীয় সড়ককেই বেছে নিতে হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের ৩১ ও ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ও ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়কের একাংশে ভুট্টা শুকোনো এবং তার জেরে যানজট চললেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

জাতীয় সড়কে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার করণদিঘি, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া ব্লকের ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়কে দিনভর যানজট লেগেই রয়েছে। দুর্ঘটনাও একরকম নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। কোনও কারণে রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজট তৈরি হলে ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়ক দিয়েই শিলিগুড়ি সহ উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যেতে হয়। সেই সঙ্গে, ওই রাস্তা দিয়েই উত্তর দিনাজপুরের তিনটি ব্লকের বিভিন্ন রুটে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার একাংশ দখল করে ভুট্টা শুকানোর কাজ হলেও প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিত্যযাত্রীরা।

করণদিঘি ব্লকের বোতলবাড়ি মোড় থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার, চাকুলিয়া থেকে কিশানগঞ্জ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং কানকি থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তার কিছুটা অন্তর ভুট্টা শুকোতে দেখা যাচ্ছে। ওই রাস্তাগুলি করণদিঘি, চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর ব্লকের রসাখোয়া, আলতাপুর, রুদেল, গোয়াগাঁও, শকুন্তলা, হাসিমারা, জনতাহাট, বিদ্যানন্দপুর, চাকুলিয়া সদর, বেলন, নিজামপুর ও কানকি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম। অভিযোগ, প্রায় সর্বত্রই ইঁট ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তার একপাশ বন্ধ করে ভুট্টা শুকানোর কাজ চলছে। ফলে, রাস্তার একপাশ দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। পূর্ণিয়া মোড় থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ৭৬ কিমি, ৩১ নং জাতীয় সড়কেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিকের অভিযোগ, ‘রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে চারঘণ্টা যানজট থাকছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে।’ পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

যদিও বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন কৃষকদের একাংশ। গোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মনি বর্মন ও শকুন্তলা এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর পাসোয়ানের দাবি, ‘প্রতিবছরই মে ও জুন মাসে রাস্তার উপর ভুট্টা শুকোনোর কাজ করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেক কর্তারাইতো গাড়িতে চেপে এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন। তাঁরা তো কখনও নিষেধ করেননি!’ কানকির সাহাসপুরের বাসিন্দা সোম সোরেন জানান, ‘তাঁরা প্রত্যেক বছরই জাতীয় সড়কে এভাবেই ভুট্টা শুকান।’

ইসলামপুরের মহকুমাশাসক খুরশিদ আলম জানান, ‘বিষয়টি সত্যি উদ্বেগের। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ইসলামপুর জেলা পুলিশ সুপার সচিন মক্কর জানিয়েছেন, এই বিষয়ে পুলিশের তরফে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও জাতীয় সড়ক থেকে থেকে শুরু করে রাজ্য ও গ্রামীণ সড়কে ফসল শুকানো কিংবা মাড়াই করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।