করোনা মোকাবিলায় পথে নামল পুলিশ

97

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় পথে নামল পুলিশ৷ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের তরফে সচেতনতামূল প্রচার চালানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরাতন মালদার বিভিন্ন জায়গায় করোনাবিধি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালায় মালদা থানার পুলিশ৷

মঙ্গলবাড়ি চৌরঙ্গি মোড় সহ ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালান পুলিশকর্মীরা৷ মালদা থানার আইসি হীরক বিশ্বাসের নেতৃত্বে এদিন সকালে সরকার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও খুলে রাখা সবজি বাজার এবং বিভিন্ন খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ পথচলতি মানুষকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়৷ করোনা মোকাবিলায় কি কি করণীয়, তা মাইকের মাধ্যমে প্রচার করেন আইসি৷ অভিযানে আইসি ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন মালদা থানার অন্য পুলিশকর্মীরা৷

- Advertisement -

অন্যদিকে, রাজ্যে লকডাউন ঘোষণার পর এদিন ছিল গাজোলের সাপ্তাহিক হাটবার। মালদা জেলার বৃহত্তম হাটের মধ্যে অন্যতম গাজোল হাট। শুধু গাজোল ব্লকই নয়, এই হাটে বেচা-কেনার জন্য আসেন দুই দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদের অনেক ক্রেতা বিক্রেতা। স্বাভাবিকভাবেই গাজোলবাসীর মনে একটা আশঙ্কা ছিলই যে করোনা বিধি মেনে সবাই কি হাটে আসবেন। এদিকে এদিন করোনা সচেতনতামূলক প্রচারে নামেন গাজোল থানার আইসি পূর্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সহ অন্য পুলিশকর্মীরা। সকাল থেকেই হাটের বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে মোতায়েন ছিল পুলিশ। মাস্ক না পরে আসা জনগণকে সতর্ক করা হয়। আইসি জানান, করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের পর থেকেই তাঁরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করে আসছেন। সমস্ত মানুষ যাতে মাস্ক ব্যবহার করেন তার জন্য লাগাতার প্রচার চলছে। ব্যবসায়ী সমিতি সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

পাশাপাশি এদিন পুলিশের তরফে প্রচার চালানো হয়েছে রায়গঞ্জেও। নির্ধারিত সময়ের পর যাতে দোকান খোলা না থাকে সেজন্য শহরের বিভিন্ন অংশে পুলিশের তরফে অভিযান চালানো হয়। রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, সরকারি নির্দেশ অনুসায়ী যাঁরা নির্ধারিত সময়ের পরও দোকান খুলে রাখছেন সেসব দোকান বন্ধ করা হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী আছেন যাঁরা পুলিশ দেখে দোকান বন্ধ করে পুলিশ চলে যাওয়ার পর ফের দোকান খুলে দিচ্ছেন। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন গ্রেপ্তার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত পঞ্চাশ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও অনেক ব্যবসায়ীর মত, যেহেতু করোনা সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাই পুলিশেরও কোনও উপায় নেই। তবে এই বিষয়ে পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডুর বক্তব্য, পুলিশ প্রশাসন জানেনই না যে কোন দোকান খোলার আওতায় আর কোন দোকান বন্ধের আওতায়। ওষুধের দোকান বাদে যেগুলো দোকান খোলা থাকার কথা সেগুলিও পুলিশ বন্ধ করে দিচ্ছে। আর দু’বেলা দোকান খোলা রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী উভয়েরই হয়রানি বেড়েছে। তিনি জানান, করোনার যে ভয়াবহ অবস্থা বর্তমানে তৈরি হয়েছে তার থেকে রেহাই পেতে সবারই সজাগ ও সতর্ক হওয়া দরকার।