করোনা আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে পূর্ব বর্ধমানে

340

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা আরও দুই পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়লো পূর্ব বর্ধমানে। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি জামালপুর থানার চকদিঘী পঞ্চায়েতের ধাপধাড়া এলাকা। বছর ১৮ বয়সী ওই যুবকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার রিপোর্ট শুক্রবার সকালে হাতে পাবার পরেই নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। চিকিৎসার জন্য এদিনই ওই পরিযায়ী শ্রমিককে পাঠানো হয় বর্ধমান শহর লাগোয়া গাংপুরের কোভিড হাসপাতালে। আক্রান্তদের বসতি এলাকায় কারুর ঢোকা বেরুনো বন্ধ করেদেওয়া হয়েছে। মুম্বাই থেকে ফিরে আসা গ্রামের যুবকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানাগিয়েছে, করোনা পজিটিভ ধরা পড়া যুবক মুম্বইয়ে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। এলাকার আরও তিন যুবকও তার সঙ্গে সেখানেই কাজ করতো। করোনা পরিস্থিতিতে সেখানে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৩ জুন তারা নিজেদের গ্রামে বাড়িতে ফিরে আসে। ওই দিন তাঁদের লালার নমুনা সংগ্রহ করে স্থানীয় বিদ্যালয়ে চালু হওয়া সরকারী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়। চার পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে একজনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার পজিটিভ এসেছে।

- Advertisement -

জেলা শাসক বিজয় ভারতি জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্র থেকে মেমারি-২ ব্লকের বাড়িতে অপর এক পরিযায়ী শ্রমিকেরও করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এছাড়াও হাওড়া থেকে ভাতারের বাড়িতে ফিরে আসা এক ব্যক্তিরও করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার রিপোর্ট এদিন এসেছে। জেলাশাসক বলেন, গত ২৩ মার্চ থেকে এদিন পর্যন্ত জেলায় ১৪৩ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তারমধ্যে ১২৬ জন ছাড়া পেয়েছেন। ১৭ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলাশাসক এদিন আরও বলেন, জেলায় ফিরেআসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খণ্ডঘোষ, মেমারি-২ ও মঙ্গলকোটে স্বর্ণশিল্পের কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও কাটোয়া-১ ও পূর্বস্থলী-২ ব্লকে লেদারের কাজের প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জেলায় ফিরে আসা ৪০০০ পরিযায়ী শ্রমিকে এখনও পর্যন্ত জবকার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।