আগামী বছরের প্রথম দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, আশা এইমস প্রধানের

1048

নয়াদিল্লি: করোনা সংক্রমণ যখন ভারতে প্রায় লাগামছাড়া, তখন আরও একটি দুঃসংবাদ শোনালেন দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর কথা সত্যি হলে আগামী বছরের আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার কোনও সম্ভাবনাই নেই। উলটে সামনের কয়েকমাস সংক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় সরকারের করোনা সংক্রান্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্য গুলেরিয়া বলেন, ২০২১-এর আগে ভারত করোনামুক্ত হয়ে যাবে, এমন কথা বলা সম্ভব নয়। তবে সংক্রমণের গ্রাফ সোজা ওপরের দিকে না উঠে ধীরে ধীরে বাড়বে। আগামী বছরের প্রথম দিক থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যেতে পারে। ভারতে বর্তমানে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৮০ হাজারের ওপর।

এ প্রসঙ্গে এইমস প্রধানের বক্তব্য, সংক্রমণ এখন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট শহর ও গ্রামগুলিতে পৌঁছে গিয়েছে। এই কারণে সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে বলা যায় যে, নিয়ন্ত্রণে আসার আগে আগামী কয়েকমাস সংক্রামিতের সংখ্যা আরও বাড়বে। ভারতের জনসংখ্যার বিচারে সংক্রামিতের সংখ্যা বিপুল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি অঞ্চলে সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভের সম্ভাবনার কথাও গুলেরিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। ওই সব জায়গায় সেকেন্ড ওয়েভের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতে সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।

- Advertisement -

গুলেরিয়া বলেন, গত কয়েমাসে দেশে দৈনিক টেস্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কোনও কোনও দিন ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি সংক্রামিতকে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এর প্রভাব সংক্রামিতের সংখ্যার ওপর পড়ছে। এছাড়া সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বহু দিন কেটে যাওয়ায় সতর্কতাবিধি মানতে অনেকে ক্লান্তিবোধ করছেন বলে প্রথম দিকে যাঁরা সতর্কতাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতেন, তাঁদের কেউ কেউ ইদানিং শিথিলতা দেখাচ্ছেন। দিল্লিতে মাস্ক না পরে লোকজনকে রাস্তায় বার হতে দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় স্বাভাবিক সময়ে মতো যানজট হচ্ছে। এই বিষয়গুলি সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ।

সেরো-সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এখনও দিল্লির প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দার সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ভারতে ৩টি ভ্যাকসিনের গবেষণায় সাফল্য মেলার সম্ভাবনা আছে। অন্যান্য দেশেও গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে। তবে কোনও ভ্যাকসিন বাজারে আনার আগে তার নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিন খুব কম লোকের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই ভ্যাকসিনটি স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে সামান্য প্রতিক্রিয়া সহ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ভ্যাকসিন তৈরিতে সাফল্য মিললেও তা সব মানুষের কাছে পৌঁছোতে সময় লাগবে বলে গুলেরিয়া মন্তব্য করেছেন।

দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর বলেন, এই কাজে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, ভ্যাকসিনের কোটি কোটি ডোজ তৈরি করতে হবে। এর পর সেগুলিকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে। এসব করতে সময়ের প্রয়োজন। যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁরা যাতে ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান, সেদিকে নজর দিতে হবে। আর কয়েকদিনের মধ্যে দেশজুড়ে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। মেট্রোযাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গুলেরিয়া বলেন, যাত্রীরা যাতে নিয়ম মেনে মাস্ক পরেন এবং নিয়মিত হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। মেট্রো চালু হওয়ার দরুণ যাতে সংক্রমণ না ছাড়ায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন গুলেরিয়া।